ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাতে ঘুম নেই, সকালে ক্লান্তি! ‘সার্কাডিয়ান ডিপ্রেশন’-এর লক্ষণ চিনবেন যেভাবে কৃত্রিম রুম ফ্রেশনার নয়, ঘর মাতুক ৬ সুগন্ধি ফুলের গাছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির আভাস, সমর্থন নেমে ৩৬ শতাংশে নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন শরীরী দৃশ্যে আপত্তি রশ্মিকার গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে: তথ্যমন্ত্রী পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে হামলার শঙ্কা, সতর্কতায় কয়েকটি সাইট স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সেচ পাম্প সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যসচিব

কৃত্রিম রুম ফ্রেশনার নয়, ঘর মাতুক ৬ সুগন্ধি ফুলের গাছে

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘরে গুমোট ভাব কিংবা অস্বস্তিকর গন্ধ দূর করতে অনেকেই নিয়মিত রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করেন। কেউ কেউ ঘরে ধূপ বা কর্পূরও জ্বালান। তবে এসব পণ্যের সুগন্ধি উপাদান ও ধোঁয়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা কিংবা শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই কৃত্রিম সুগন্ধির বিকল্প হিসেবে ঘরে রাখতে পারেন প্রাকৃতিক সুবাস ছড়ানো নানা ফুলের গাছ।

এসব গাছ ঘরের বারান্দা, জানলার পাশ কিংবা ছোট্ট বাগানের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ফুল ফোটার সময়ে ছড়িয়ে দিতে পারে মিষ্টি সুবাস। তবে গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত আলো, পানি এবং নিয়মিত পরিচর্যা।

ঘর ও বারান্দা সুগন্ধে ভরিয়ে তুলতে বেছে নিতে পারেন এই ছয়টি ফুলের গাছ।

১. বেলি: সন্ধ্যায় মিষ্টি সুবাস

বাঙালির কাছে বেলি ফুলের মিষ্টি সুবাস বেশ পরিচিত। ছোট ছোট সাদা ফুলে গাছ ভরে উঠলে তার সৌন্দর্য যেমন মন কাড়ে, তেমনি সন্ধ্যার দিকে সুবাসও উপভোগ করা যায়। বারান্দা কিংবা জানলার পাশে পর্যাপ্ত আলো আসে—এমন জায়গায় টবে বেলি গাছ রাখতে পারেন। গাছের গোড়ায় পানি জমতে না দিয়ে মাটির জলনিকাশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

২. জুঁই: ছোট ফুলে মনভোলানো ঘ্রাণ

ছোট সাদা ফুল আর মিষ্টি সুবাসের জন্য জুঁই গাছের কদর রয়েছে অনেকের কাছে। টবে সহজেই এই গাছ লাগানো যায়। তবে জুঁইয়ের বিভিন্ন জাতের পরিচর্যায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। গাছের ধরন অনুযায়ী রোদ, পানি ও ছাঁটাইয়ের ব্যবস্থা করলে ভালো বৃদ্ধি হয় এবং ফুল ফোটার সম্ভাবনাও বাড়ে।

৩. রজনীগন্ধা: রাতের পরিবেশে সুবাসের ছোঁয়া

রজনীগন্ধার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে এর বিশেষ সুবাস। সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে ফুলের গন্ধ বেশি অনুভূত হতে পারে। বাড়ির বাগান কিংবা উপযুক্ত আকারের টবে রজনীগন্ধা লাগানো যায়। কাটা ফুল ফুলদানিতে রাখলেও ঘরে সুবাস ছড়ায়। তবে ফুলদানির পানি নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে, যাতে পানি নোংরা হয়ে দুর্গন্ধ তৈরি না করে।

৪. গোলাপ: সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রাকৃতিক সুবাস

গোলাপের সৌন্দর্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে সব জাতের গোলাপের গন্ধ সমান নয়। কোনো জাতের সুবাস তীব্র, আবার কোনো জাতের ঘ্রাণ তুলনামূলক হালকা। তাই ঘরে প্রাকৃতিক সুবাসের জন্য গোলাপ গাছ রাখতে চাইলে সুগন্ধি জাত বেছে নেওয়া ভালো। পর্যাপ্ত রোদ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলে টবেও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে গোলাপ গাছ।

৫. গন্ধরাজ: সাদা ফুলে মিষ্টি ঘ্রাণ

নামেই রয়েছে সুবাসের পরিচয়। সাদা গন্ধরাজ ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ বারান্দা কিংবা বাগানের পরিবেশকে করে তুলতে পারে মনোরম। গাছটি ভালো রাখতে উজ্জ্বল আলো, আর্দ্র মাটি এবং যথাযথ জলনিকাশ প্রয়োজন। তবে গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত পরিচর্যা পেলে ফুল ফোটার মৌসুমে গন্ধরাজের সুবাস উপভোগ করা যায়।

৬. মাধবীলতা: সৌন্দর্য ও সুবাস একসঙ্গে

বাড়ির গেট, বারান্দার গ্রিল কিংবা বাগানের মাচা সাজানোর জন্য মাধবীলতা বেশ উপযোগী। এটি একটি লতানো গাছ। ফুল ফুটলে গোলাপি, সাদা কিংবা লালচে রঙের ফুলে চারপাশ যেমন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, তেমনি ছড়াতে পারে মিষ্টি সুবাসও। গাছটির বেড়ে ওঠার জন্য মাচা বা অন্য কোনো অবলম্বন দরকার। পর্যাপ্ত আলো ও নিয়মিত পরিচর্যা পেলে বাড়ির ছোট্ট বাগানেও মাধবীলতা এনে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।

ঘরে প্রাকৃতিক সুবাস রাখতে যা খেয়াল রাখবেন

সুগন্ধি ফুলের গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ালেও শুধু গাছ রাখলেই গুমোট ভাব বা বদ্ধ বাতাসের সমস্যা দূর হয় না। ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত সুগন্ধ কিছু মানুষের অস্বস্তি বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই নিজের সহনশীলতা বুঝে গাছ বেছে নিন।

কৃত্রিম সুগন্ধির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বারান্দা কিংবা জানলার পাশে কয়েকটি সুগন্ধি ফুলের গাছ রাখলেই ঘরের সাজে আসতে পারে নতুনত্ব—আর ফুল ফোটার সময়ে মিলতে পারে প্রকৃতির নিজস্ব সুবাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কৃত্রিম রুম ফ্রেশনার নয়, ঘর মাতুক ৬ সুগন্ধি ফুলের গাছে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ঘরে গুমোট ভাব কিংবা অস্বস্তিকর গন্ধ দূর করতে অনেকেই নিয়মিত রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করেন। কেউ কেউ ঘরে ধূপ বা কর্পূরও জ্বালান। তবে এসব পণ্যের সুগন্ধি উপাদান ও ধোঁয়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা কিংবা শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই কৃত্রিম সুগন্ধির বিকল্প হিসেবে ঘরে রাখতে পারেন প্রাকৃতিক সুবাস ছড়ানো নানা ফুলের গাছ।

এসব গাছ ঘরের বারান্দা, জানলার পাশ কিংবা ছোট্ট বাগানের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ফুল ফোটার সময়ে ছড়িয়ে দিতে পারে মিষ্টি সুবাস। তবে গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত আলো, পানি এবং নিয়মিত পরিচর্যা।

ঘর ও বারান্দা সুগন্ধে ভরিয়ে তুলতে বেছে নিতে পারেন এই ছয়টি ফুলের গাছ।

১. বেলি: সন্ধ্যায় মিষ্টি সুবাস

বাঙালির কাছে বেলি ফুলের মিষ্টি সুবাস বেশ পরিচিত। ছোট ছোট সাদা ফুলে গাছ ভরে উঠলে তার সৌন্দর্য যেমন মন কাড়ে, তেমনি সন্ধ্যার দিকে সুবাসও উপভোগ করা যায়। বারান্দা কিংবা জানলার পাশে পর্যাপ্ত আলো আসে—এমন জায়গায় টবে বেলি গাছ রাখতে পারেন। গাছের গোড়ায় পানি জমতে না দিয়ে মাটির জলনিকাশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

২. জুঁই: ছোট ফুলে মনভোলানো ঘ্রাণ

ছোট সাদা ফুল আর মিষ্টি সুবাসের জন্য জুঁই গাছের কদর রয়েছে অনেকের কাছে। টবে সহজেই এই গাছ লাগানো যায়। তবে জুঁইয়ের বিভিন্ন জাতের পরিচর্যায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। গাছের ধরন অনুযায়ী রোদ, পানি ও ছাঁটাইয়ের ব্যবস্থা করলে ভালো বৃদ্ধি হয় এবং ফুল ফোটার সম্ভাবনাও বাড়ে।

৩. রজনীগন্ধা: রাতের পরিবেশে সুবাসের ছোঁয়া

রজনীগন্ধার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে এর বিশেষ সুবাস। সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে ফুলের গন্ধ বেশি অনুভূত হতে পারে। বাড়ির বাগান কিংবা উপযুক্ত আকারের টবে রজনীগন্ধা লাগানো যায়। কাটা ফুল ফুলদানিতে রাখলেও ঘরে সুবাস ছড়ায়। তবে ফুলদানির পানি নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে, যাতে পানি নোংরা হয়ে দুর্গন্ধ তৈরি না করে।

৪. গোলাপ: সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রাকৃতিক সুবাস

গোলাপের সৌন্দর্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে সব জাতের গোলাপের গন্ধ সমান নয়। কোনো জাতের সুবাস তীব্র, আবার কোনো জাতের ঘ্রাণ তুলনামূলক হালকা। তাই ঘরে প্রাকৃতিক সুবাসের জন্য গোলাপ গাছ রাখতে চাইলে সুগন্ধি জাত বেছে নেওয়া ভালো। পর্যাপ্ত রোদ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলে টবেও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে গোলাপ গাছ।

৫. গন্ধরাজ: সাদা ফুলে মিষ্টি ঘ্রাণ

নামেই রয়েছে সুবাসের পরিচয়। সাদা গন্ধরাজ ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ বারান্দা কিংবা বাগানের পরিবেশকে করে তুলতে পারে মনোরম। গাছটি ভালো রাখতে উজ্জ্বল আলো, আর্দ্র মাটি এবং যথাযথ জলনিকাশ প্রয়োজন। তবে গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত পরিচর্যা পেলে ফুল ফোটার মৌসুমে গন্ধরাজের সুবাস উপভোগ করা যায়।

৬. মাধবীলতা: সৌন্দর্য ও সুবাস একসঙ্গে

বাড়ির গেট, বারান্দার গ্রিল কিংবা বাগানের মাচা সাজানোর জন্য মাধবীলতা বেশ উপযোগী। এটি একটি লতানো গাছ। ফুল ফুটলে গোলাপি, সাদা কিংবা লালচে রঙের ফুলে চারপাশ যেমন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, তেমনি ছড়াতে পারে মিষ্টি সুবাসও। গাছটির বেড়ে ওঠার জন্য মাচা বা অন্য কোনো অবলম্বন দরকার। পর্যাপ্ত আলো ও নিয়মিত পরিচর্যা পেলে বাড়ির ছোট্ট বাগানেও মাধবীলতা এনে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।

ঘরে প্রাকৃতিক সুবাস রাখতে যা খেয়াল রাখবেন

সুগন্ধি ফুলের গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ালেও শুধু গাছ রাখলেই গুমোট ভাব বা বদ্ধ বাতাসের সমস্যা দূর হয় না। ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত সুগন্ধ কিছু মানুষের অস্বস্তি বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই নিজের সহনশীলতা বুঝে গাছ বেছে নিন।

কৃত্রিম সুগন্ধির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বারান্দা কিংবা জানলার পাশে কয়েকটি সুগন্ধি ফুলের গাছ রাখলেই ঘরের সাজে আসতে পারে নতুনত্ব—আর ফুল ফোটার সময়ে মিলতে পারে প্রকৃতির নিজস্ব সুবাস।