সান্তাহারে ভুয়া লাইসেন্স প্লেটে টোল আদায়, পৌর কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলগেট এলাকায় পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়ের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন টোল আদায়কারী রবিউল ইসলাম (২৫) ও এর হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত সান্তাহার পৌরসভার কর্মচারী আলম হোসেন (৫৬)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার যারা
রবিউল ইসলাম উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের পৌঁওতা গ্রামের বড় টিকড়ী এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আলম হোসেন সান্তাহার পৌরসভার কলসা হলুদ ঘর এলাকার মৃত আসতুল সরদারের ছেলে। তিনি পৌরসভার কর্মচারী এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত।
ভ্যান আটকে ৬৫০ টাকা দাবি
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁর শৈলগাছী থেকে ফারুক সরদার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজস্ব অটোভ্যানে সান্তাহারে বড় মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। সান্তাহার রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে টোল আদায়কারী রবিউল তাঁর ভ্যানটি আটক করেন।
রবিউল তাঁকে জানান, ভ্যানটি সান্তাহার পৌরসভার লাইসেন্সভুক্ত নয়। এ কারণে লাইসেন্স বাবদ ৬৫০ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় ভ্যান ছেড়ে দেওয়া হবে না।
ফারুক সরদার অনুরোধ করেও ভ্যানটি ছাড়াতে না পেরে তাঁর জামাই বেলাল হোসেনকে ফোন করেন। বেলাল হোসেন সান্তাহারের একজন ব্যবসায়ী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু টাকা নিয়ে ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে রবিউল রাজি না হওয়ায় সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক এবং শ্রমিক দল ও যুবদলের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। একপর্যায়ে ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে যাচাই
পরে রবিউলকে তাঁর সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, লাইসেন্স প্লেট, লাইসেন্স বুকসহ টোল আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়।
সন্ধ্যার পর বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মহিত তালুকদারের সান্তাহার কার্যালয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। সেখানে লাইসেন্স প্লেট, লাইসেন্স বুক ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর পৌরসভার অনুমতি ছাড়া ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে টোল আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছে।
এরপর রবিউল ইসলাম ও আলম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পৌরসভার অনুমোদন নেই
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সান্তাহার পৌরসভার প্রশাসক মাসুমা বেগম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে পৌরসভার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। পৌরসভার নামে টোল আদায়ের সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টোল আদায়কারী রবিউল ইসলাম ও এর হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত পৌর কর্মচারী আলম হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
























