ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন উদ্যোগ, নভেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে সাময়িক টানাপোড়েনের পর আবারও সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরেই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও গঙ্গার পানি বণ্টন আলোচনায়
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক চলছে। সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে আলোচ্যসূচি তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক সম্পর্কের অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। পাশাপাশি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অক্টোবর ও নভেম্বরজুড়ে তাঁর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যেই নভেম্বরের উপযুক্ত সময়ে নয়াদিল্লি সফরের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
ভারতীয় হাইকমিশনারের একাধিক বৈঠক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
বৈঠক করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
এদিকে ভারতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সেখানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে সম্পর্কে টানাপোড়েন
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে ঢাকা-নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর সর্বশেষ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি কর্মসূচি বাতিল হওয়ার ঘটনাকে বিএনপি সরকার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছিল।
বিএনপি-ভারত যোগাযোগের পুরোনো ধারাবাহিকতা
দ্য হিন্দুর দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগ অন্তত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আবার শুরু হয়। ওই সময় দিল্লির অবস্থান বোঝার জন্য তিনি একজন দূতকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল।
নির্বাচনের দুই মাস আগে বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নয়াদিল্লি সফর করেন। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ভারতের স্পষ্ট সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৮ সালেও বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করে। ওই দলে ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির।
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য তারেক রহমানের ভারত সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।





















