আটা-ময়দার দামে নতুন চাপ, চড়া বাজারে মুরগি-ডিম-মাছ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
নিত্যপণ্যের বাজারে ফের বাড়ল আটা ও ময়দার দাম। এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও মোড়কজাত—দুই ধরনের পণ্যের মূল্যই বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারেও স্বস্তি ফিরছে না। তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে সবজির বাজারে, যেখানে দাম এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
এক মাসে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকাতেও আটা ও ময়দার মূল্যবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।
তবে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আরও বেশি। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।
শুক্রবার ঢাকার তিনটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আগে এ পণ্যের দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
মোড়কজাত ময়দার দামও বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজির এক প্যাকেট ময়দা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগে মোড়কজাত ময়দার কেজি ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। গত সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ায় আমরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছি।’
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত
আটা-ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে গত শনিবার বানরুটি ও বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেন ব্যবসায়ীরা।
এরপর মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বেকারি খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে রুটি ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হন ব্যবসায়ীরা।
চড়া দামে মুরগি ও ডিম
আটা-ময়দার পাশাপাশি ফার্মের মুরগি ও ডিমের বাজারেও দাম কমেনি। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেড় মাস আগে এর দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে।
বর্তমানে বাদামি রঙের ফার্মের ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। সাদা ডিমের দাম তুলনামূলকভাবে ১০ টাকা কম। দেড় মাস আগেও ডিমের দাম প্রায় একই ছিল।
এ ছাড়া সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক থেকে দুই সপ্তাহে এসব মুরগির দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বিক্রেতারা বলছেন, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে গত পাঁচ-ছয় মাসে অনেক খামারে ডিম উৎপাদন ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মুরগি ও ডিমের দাম কমছে না।
মাছের বাজারেও বাড়তি দাম
রাজধানীর বাজারগুলোতে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও পাবদাসহ বিভিন্ন মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।
শুক্রবার আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আকারভেদে চাষের পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
সব মিলিয়ে আটা-ময়দা, মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে বাড়তি দামের চাপ থাকলেও আপাতত সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এসব পণ্যের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা।

























