গুলশান-বনানী-ধানমন্ডি লেক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি সভাপতিত্ব করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।
বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের ছয়টি প্রাথমিক ও ছয়টি দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে দূষিত পানি ও বর্জ্য লেকে প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করে।
লেক দূষণ কমাতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ জরিপের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গুলশান-বনানী এলাকায় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাড়াতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুইটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নির্ধারিত ভবনগুলোতে সময়মতো এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
লেকের পানির মান উন্নয়নে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
এ ছাড়া রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ৪২ জন জনবল নিয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম কাজ করছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















