ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশে বড় রদবদল, অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদে ১১ কর্মকর্তার বদলি সৌদি কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তেঁতুলিয়ায় মৃত ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে মামলা, সড়ক অবরোধ নৌকা স্থগিত, একক প্রার্থীর ব্যালটে ‘না’—ইসির নতুন বিধিমালা আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক, অনুসন্ধানে অভিযোগের বিস্তার বাকস্বাধীনতা রক্ষা করেই সাইবার আইন সংশোধন হবে: আইনমন্ত্রী সাতসকালে বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানী, ভোগান্তিতে কর্মজীবীরা ইউপি ভোট নভেম্বরে হচ্ছে না? পরীক্ষা-রমজানে অনিশ্চিত স্থানীয় নির্বাচন ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা কি নিরাপদ? যেভাবে পান করলে ক্ষতি কম চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছায়া? যে রেটিনার রোগের লক্ষণ হতে পারে

ইউপি ভোট নভেম্বরে হচ্ছে না? পরীক্ষা-রমজানে অনিশ্চিত স্থানীয় নির্বাচন

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী ১২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান, ঈদ ও এসএসসি পরীক্ষার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী বছরের মে মাসের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে নির্বাচন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত পাওয়ার পর সময়সূচি নির্ধারণে এগোবে ইসি।

একের পর এক বাধা, পিছিয়ে যেতে পারে ভোট

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে ইসি। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের প্রস্তুতি ও মতামত জানাবে। এরপর নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সভার আলোচনার আগে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করা ঠিক হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীক্ষার সময় শুধু ভোটগ্রহণ নয়, নির্বাচনের প্রচার, প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বিবেচনায় নিতে হবে। ভোট আয়োজনের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটুক, তা সরকার চায় না।

ফলে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের সম্ভাব্য ভোটের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

রমজান ও এসএসসি পরীক্ষাও বিবেচনায়

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর হতে পারে—এমন সম্ভাব্য সময় ধরে পরিকল্পনা করছে। রমজান ও ঈদের সময় নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর পরেই রয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান, ঈদ ও এসএসসি পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে মে মাসের আগে ভোট শুরুর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

ইসির সাত ধাপের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর?

ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী—প্রথম ধাপ: ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ: ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ: ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ: ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ: ২২ এপ্রিল, সপ্তম ধাপ: ২৭ মে।

প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।

তবে ইসি জানিয়েছে, এগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন

ইসির প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশের পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, ঘোষিত তারিখ সম্পর্কে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আগে থেকে অবহিত ছিল না।

পরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আলোচিত তারিখগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

ইউপি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব ইসির হলেও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সহায়তা ও বাজেটের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। আন্তমন্ত্রণালয় সভাটি সেই সমন্বয়ের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নানা অজুহাতে পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ বাড়লে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব আরও পিছিয়ে যাবে।

তিনি দ্রুত সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা এবং ইসির সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার দাবি জানান।

জনপ্রতিনিধি পেতে অপেক্ষা বাড়ছে

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। এসব ইউনিয়নে সর্বশেষ বড় পরিসরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ ও ২০২২ সালে। এরই মধ্যে অনেক ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

বরিশালের ১৯টি ইউনিয়নে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের আরও অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

নির্বাচন আগামী মে মাস পর্যন্ত পিছিয়ে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতে সাধারণ মানুষের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। এ-সংক্রান্ত আইন ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—পরীক্ষা, রমজান ও ঈদের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ইসি কবে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইউপি ভোট নভেম্বরে হচ্ছে না? পরীক্ষা-রমজানে অনিশ্চিত স্থানীয় নির্বাচন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী ১২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান, ঈদ ও এসএসসি পরীক্ষার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী বছরের মে মাসের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে নির্বাচন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত পাওয়ার পর সময়সূচি নির্ধারণে এগোবে ইসি।

একের পর এক বাধা, পিছিয়ে যেতে পারে ভোট

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে ইসি। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের প্রস্তুতি ও মতামত জানাবে। এরপর নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সভার আলোচনার আগে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করা ঠিক হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীক্ষার সময় শুধু ভোটগ্রহণ নয়, নির্বাচনের প্রচার, প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বিবেচনায় নিতে হবে। ভোট আয়োজনের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটুক, তা সরকার চায় না।

ফলে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের সম্ভাব্য ভোটের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

রমজান ও এসএসসি পরীক্ষাও বিবেচনায়

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর হতে পারে—এমন সম্ভাব্য সময় ধরে পরিকল্পনা করছে। রমজান ও ঈদের সময় নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর পরেই রয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান, ঈদ ও এসএসসি পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে মে মাসের আগে ভোট শুরুর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

ইসির সাত ধাপের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর?

ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী—প্রথম ধাপ: ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ: ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ: ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ: ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ: ২২ এপ্রিল, সপ্তম ধাপ: ২৭ মে।

প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।

তবে ইসি জানিয়েছে, এগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন

ইসির প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশের পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, ঘোষিত তারিখ সম্পর্কে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আগে থেকে অবহিত ছিল না।

পরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আলোচিত তারিখগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

ইউপি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব ইসির হলেও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সহায়তা ও বাজেটের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। আন্তমন্ত্রণালয় সভাটি সেই সমন্বয়ের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নানা অজুহাতে পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ বাড়লে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব আরও পিছিয়ে যাবে।

তিনি দ্রুত সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা এবং ইসির সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার দাবি জানান।

জনপ্রতিনিধি পেতে অপেক্ষা বাড়ছে

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। এসব ইউনিয়নে সর্বশেষ বড় পরিসরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ ও ২০২২ সালে। এরই মধ্যে অনেক ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

বরিশালের ১৯টি ইউনিয়নে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের আরও অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

নির্বাচন আগামী মে মাস পর্যন্ত পিছিয়ে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতে সাধারণ মানুষের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। এ-সংক্রান্ত আইন ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—পরীক্ষা, রমজান ও ঈদের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ইসি কবে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে পারে।