ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা কি নিরাপদ? যেভাবে পান করলে ক্ষতি কম চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছায়া? যে রেটিনার রোগের লক্ষণ হতে পারে রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুম! হৃদ্‌স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব পড়ে? মশার ওষুধে কেরোসিন, বর্জ্য সংগ্রহে বাড়তি ফি: ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর থেকে চলচ্চিত্রে ফিরুক সমাজ বদলের বার্তা, নির্মাতাদের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু ক্লাস মেলান্দহে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল পরিবেশ অধিদপ্তর সাত মাসে ৬৪১ ধর্ষণ, ৩৭ হত্যা: মামলা হলেও ন্যায়বিচারে ঘাটতি কেন? কংগ্রেস নেতাদের গণহত্যা! ১৩ বছর পর ১০ মাওবাদী নেতার মৃত্যুদণ্ড

চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছায়া? যে রেটিনার রোগের লক্ষণ হতে পারে

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চোখের সামনে হঠাৎ ধোঁয়াটে বা কালো ছায়া নেমে আসা, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া কিংবা সোজা রেখা বাঁকা দেখা—এসব উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন সমস্যার পেছনে থাকতে পারে রেটিনার একটি রোগ, যার নাম সেন্ট্রাল সিরাস কোরিয়োরেটিনোপ্যাথি (Central Serous Chorioretinopathy)।

এই রোগে চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছোপ দেখা দিতে পারে। কখনো দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আবার কোনো বস্তু স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট বা দূরে মনে হতে পারে।

চোখের সামনে কালো ছায়া দেখা দেয় কেন?

চোখের পেছনে থাকা রেটিনা আলো গ্রহণ করে ছবি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রেটিনার ঠিক পেছনে রয়েছে কোরোয়েড নামের একটি স্তর, যেখানে রক্তনালি থাকে। এই দুই স্তরের মাঝখানে থাকা রেটিনাল পিগমেন্ট এপিথেলিয়াম সাধারণত রক্তনালি থেকে তরল রেটিনায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

তবে কোনো কারণে এই স্তর দুর্বল হয়ে গেলে কোরোয়েড থেকে তরল চুঁইয়ে রেটিনার নিচে জমা হতে পারে। এতে রেটিনা ফুলে যায় এবং আলো গ্রহণ ও প্রতিফলনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে চোখের সামনে ঝাপসা, অন্ধকার বা ধূসর ছোপ দেখা দিতে পারে।

যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেন্ট্রাল সিরাস কোরিয়োরেটিনোপ্যাথি শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সে এই রোগ হতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

সেন্ট্রাল সিরাস কোরিয়োরেটিনোপ্যাথিতে সাধারণত নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে—

দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
দূরের বস্তু দেখতে অসুবিধা হওয়া।
চোখের সামনে কালো বা ধূসর গোলাকার ছোপ দেখা।
সোজা রেখা বাঁকা বা অসমান মনে হওয়া।
কোনো বস্তু বা প্রাণীর আকার বিকৃত দেখা।
বস্তু স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট বা দূরে মনে হওয়া।
সাদা বা উজ্জ্বল রং ফ্যাকাশে দেখা।
রং শনাক্ত করতে সমস্যা হওয়া।
কম আলোয় দেখতে অসুবিধা এবং লেখা পড়তে কষ্ট হওয়া।
কারা ঝুঁকিতে রয়েছেন?

কিছু শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপনের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন—

স্টেরয়েডের ব্যবহার: স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ, ইনহেলার বা ইনজেকশন ব্যবহারের সঙ্গে এ রোগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

মানসিক চাপ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডায়াবিটিস: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস চোখের বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে।

অন্যান্য শারীরিক সমস্যা: স্লিপ অ্যাপনিয়া ও উচ্চ রক্তচাপসহ কিছু শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও এ রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

চোখের সামনে ছায়া দেখলে কী করবেন?

চোখের সামনে হঠাৎ কালো ছায়া, ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টির বিকৃতি দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এসব উপসর্গ রেটিনার অন্যান্য গুরুতর সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষ করে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, আলোর ঝলকানি, অসংখ্য কালো দাগ বা পর্দার মতো ছায়া দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চোখের রেটিনা পরীক্ষা, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (OCT) এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। রোগের কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছায়া? যে রেটিনার রোগের লক্ষণ হতে পারে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চোখের সামনে হঠাৎ ধোঁয়াটে বা কালো ছায়া নেমে আসা, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া কিংবা সোজা রেখা বাঁকা দেখা—এসব উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন সমস্যার পেছনে থাকতে পারে রেটিনার একটি রোগ, যার নাম সেন্ট্রাল সিরাস কোরিয়োরেটিনোপ্যাথি (Central Serous Chorioretinopathy)।

এই রোগে চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছোপ দেখা দিতে পারে। কখনো দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আবার কোনো বস্তু স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট বা দূরে মনে হতে পারে।

চোখের সামনে কালো ছায়া দেখা দেয় কেন?

চোখের পেছনে থাকা রেটিনা আলো গ্রহণ করে ছবি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রেটিনার ঠিক পেছনে রয়েছে কোরোয়েড নামের একটি স্তর, যেখানে রক্তনালি থাকে। এই দুই স্তরের মাঝখানে থাকা রেটিনাল পিগমেন্ট এপিথেলিয়াম সাধারণত রক্তনালি থেকে তরল রেটিনায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

তবে কোনো কারণে এই স্তর দুর্বল হয়ে গেলে কোরোয়েড থেকে তরল চুঁইয়ে রেটিনার নিচে জমা হতে পারে। এতে রেটিনা ফুলে যায় এবং আলো গ্রহণ ও প্রতিফলনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে চোখের সামনে ঝাপসা, অন্ধকার বা ধূসর ছোপ দেখা দিতে পারে।

যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেন্ট্রাল সিরাস কোরিয়োরেটিনোপ্যাথি শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সে এই রোগ হতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

সেন্ট্রাল সিরাস কোরিয়োরেটিনোপ্যাথিতে সাধারণত নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে—

দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
দূরের বস্তু দেখতে অসুবিধা হওয়া।
চোখের সামনে কালো বা ধূসর গোলাকার ছোপ দেখা।
সোজা রেখা বাঁকা বা অসমান মনে হওয়া।
কোনো বস্তু বা প্রাণীর আকার বিকৃত দেখা।
বস্তু স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট বা দূরে মনে হওয়া।
সাদা বা উজ্জ্বল রং ফ্যাকাশে দেখা।
রং শনাক্ত করতে সমস্যা হওয়া।
কম আলোয় দেখতে অসুবিধা এবং লেখা পড়তে কষ্ট হওয়া।
কারা ঝুঁকিতে রয়েছেন?

কিছু শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপনের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন—

স্টেরয়েডের ব্যবহার: স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ, ইনহেলার বা ইনজেকশন ব্যবহারের সঙ্গে এ রোগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

মানসিক চাপ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডায়াবিটিস: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস চোখের বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে।

অন্যান্য শারীরিক সমস্যা: স্লিপ অ্যাপনিয়া ও উচ্চ রক্তচাপসহ কিছু শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও এ রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

চোখের সামনে ছায়া দেখলে কী করবেন?

চোখের সামনে হঠাৎ কালো ছায়া, ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টির বিকৃতি দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এসব উপসর্গ রেটিনার অন্যান্য গুরুতর সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষ করে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, আলোর ঝলকানি, অসংখ্য কালো দাগ বা পর্দার মতো ছায়া দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চোখের রেটিনা পরীক্ষা, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (OCT) এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। রোগের কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।