ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা কি নিরাপদ? যেভাবে পান করলে ক্ষতি কম

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চা ছাড়া অনেকেরই সকাল শুরু হয় না। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ দুধ-চা কিংবা কাজের ফাঁকে চায়ে চুমুক দেওয়া যেন প্রতিদিনের অভ্যাস। তবে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে এই অভ্যাস নিয়ে কিছুটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চায়ে কতটা চিনি ও কী ধরনের দুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে পানীয়টি কতটা স্বাস্থ্যকর।

চিকিৎসকদের মতে, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থাকলেই চা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন নয়। তবে চিনি ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত উপাদান এড়িয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার কী?

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মাইল্ড সিম্পল হেপাটিক স্টিয়াটোসিস’ বলা হয়। এ অবস্থায় লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে।

এটি ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়। জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে অবহেলা করলে পরবর্তী সময়ে লিভারে প্রদাহ, ক্ষত তৈরি হওয়া বা সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

দুধ-চা লিভারের জন্য কতটা ভালো?

চা পাতায় থাকা পলিফেনল এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চা খেলেই লিভারের জমে থাকা চর্বি বা টক্সিন দূর হয়ে যায়—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো এর উপাদান ও পরিমাণ।

চায়ে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ফ্যাটি লিভার থাকলে নিয়মিত মিষ্টি চা পান না করাই ভালো।

অন্যদিকে, অল্প পরিমাণে লো-ফ্যাট দুধ দিয়ে চা পান করা অনেকের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে ফুল-ক্রিম দুধ, কনডেন্সড মিল্ক ও অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করলে পানীয়টির ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

ফ্যাটি লিভার থাকলে যেভাবে চা খাবেন

স্বাস্থ্যকরভাবে দুধ-চা পান করতে চাইলে কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে পারেন—

  • চায়ে সাদা চিনি, ব্রাউন সুগার ও কনডেন্সড মিল্ক এড়িয়ে চলুন।
  • ফুল-ক্রিম দুধের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে লো-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করতে পারেন।
  • স্বাদ বাড়াতে আদা, এলাচ, দারচিনি বা লবঙ্গ যোগ করা যেতে পারে।
  • চায়ে অতিরিক্ত দুধ বা চিনি না দিয়ে হালকা করে পান করুন।
  • চায়ের পাশাপাশি সার্বিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিন।

আমন্ড, সয়া বা ওট মিল্ক ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই চিনি ছাড়া ও পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে বেছে নেওয়া উচিত।

শুধু চা বদলালেই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে আসে না

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু দুধ-চায়ের ধরন পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া খাবার ও অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লিভারে চর্বি জমার মাত্রা, ওজন, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ নির্ভর করে। তাই ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা সবচেয়ে নিরাপদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা কি নিরাপদ? যেভাবে পান করলে ক্ষতি কম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চা ছাড়া অনেকেরই সকাল শুরু হয় না। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ দুধ-চা কিংবা কাজের ফাঁকে চায়ে চুমুক দেওয়া যেন প্রতিদিনের অভ্যাস। তবে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে এই অভ্যাস নিয়ে কিছুটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চায়ে কতটা চিনি ও কী ধরনের দুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে পানীয়টি কতটা স্বাস্থ্যকর।

চিকিৎসকদের মতে, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থাকলেই চা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন নয়। তবে চিনি ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত উপাদান এড়িয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার কী?

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মাইল্ড সিম্পল হেপাটিক স্টিয়াটোসিস’ বলা হয়। এ অবস্থায় লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে।

এটি ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়। জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে অবহেলা করলে পরবর্তী সময়ে লিভারে প্রদাহ, ক্ষত তৈরি হওয়া বা সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

দুধ-চা লিভারের জন্য কতটা ভালো?

চা পাতায় থাকা পলিফেনল এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চা খেলেই লিভারের জমে থাকা চর্বি বা টক্সিন দূর হয়ে যায়—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো এর উপাদান ও পরিমাণ।

চায়ে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ফ্যাটি লিভার থাকলে নিয়মিত মিষ্টি চা পান না করাই ভালো।

অন্যদিকে, অল্প পরিমাণে লো-ফ্যাট দুধ দিয়ে চা পান করা অনেকের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে ফুল-ক্রিম দুধ, কনডেন্সড মিল্ক ও অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করলে পানীয়টির ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

ফ্যাটি লিভার থাকলে যেভাবে চা খাবেন

স্বাস্থ্যকরভাবে দুধ-চা পান করতে চাইলে কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে পারেন—

  • চায়ে সাদা চিনি, ব্রাউন সুগার ও কনডেন্সড মিল্ক এড়িয়ে চলুন।
  • ফুল-ক্রিম দুধের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে লো-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করতে পারেন।
  • স্বাদ বাড়াতে আদা, এলাচ, দারচিনি বা লবঙ্গ যোগ করা যেতে পারে।
  • চায়ে অতিরিক্ত দুধ বা চিনি না দিয়ে হালকা করে পান করুন।
  • চায়ের পাশাপাশি সার্বিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিন।

আমন্ড, সয়া বা ওট মিল্ক ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই চিনি ছাড়া ও পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে বেছে নেওয়া উচিত।

শুধু চা বদলালেই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে আসে না

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু দুধ-চায়ের ধরন পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া খাবার ও অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লিভারে চর্বি জমার মাত্রা, ওজন, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ নির্ভর করে। তাই ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা সবচেয়ে নিরাপদ।