চলচ্চিত্রে ফিরুক সমাজ বদলের বার্তা, নির্মাতাদের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
চলচ্চিত্রকে সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে সামাজিক সংকট ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে নির্মাতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় সিনেমার বার্তা দর্শকের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলত। তাই প্রতিটি চলচ্চিত্রে নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বক্তব্য থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত।’
প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রে সামাজিক ও মানবিক বার্তা থাকত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী দিনে সবাইকে একসঙ্গে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।’
সমাজে মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব সংকট থেকে মানুষকে পথ দেখাতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারও তার পুরোনো গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অতীতের সোনালি দিনের তুলনায় দেশের চলচ্চিত্রশিল্প যে পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল, তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, পুরো চলচ্চিত্রশিল্পকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে আন্তরিক এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএফডিসির উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের স্বকীয়তা এবং গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত সেই শেষ প্রজন্ম, যারা বাংলা সিনেমার সেরা সময়গুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি।’
চলচ্চিত্রশিল্পের বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতাম। এখান থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই আমি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছি।’
এ ছাড়া চলচ্চিত্রশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য বেশ কয়েকজন গুণী ব্যক্তি ও নির্মাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), চলচ্চিত্র পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চলচ্চিত্র পরিচালক ড. মতিন রহমান এবং মশিউদ্দীন শাকের।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। উপস্থিত ছিলেন সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানিসহ দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।





















