রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুম! হৃদ্স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব পড়ে?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
রাতে ঘুমানোর সময় ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখা, টিভি চালু রাখা কিংবা জানালা দিয়ে আসা উজ্জ্বল আলোকে স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন অনেকে। কিন্তু চোখ বন্ধ থাকলেও আলো শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়িতে প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত রাতের আলোর সংস্পর্শে থাকলে ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রক্তচাপ, হৃদ্স্পন্দন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এক রাত আলো জ্বালিয়ে ঘুমালেই হৃদ্রোগ হবে—বিষয়টি এমন নয়। বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাস কীভাবে ঘুম ও হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
আলো কীভাবে ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে?
মানুষের শরীরে রয়েছে একটি স্বাভাবিক জৈবঘড়ি, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। আলো ও অন্ধকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই জৈবঘড়ি নির্ধারণ করে কখন শরীর সক্রিয় থাকবে এবং কখন বিশ্রামের প্রস্তুতি নেবে।
রাতের অন্ধকারে মস্তিষ্ক থেকে মেলাটোনিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। কিন্তু রাতে উজ্জ্বল আলো, বিশেষ করে চোখের কাছাকাছি আলো থাকলে, মেলাটোনিনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমে যেতে পারে।
ফলে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা গভীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা থাকে।
ঘুমের সমস্যা কীভাবে হৃদ্যন্ত্রে চাপ তৈরি করে?
ঘুমের গুণমান খারাপ হলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলে—
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
হৃদ্স্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে।
শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা হৃদ্রোগের পরিচিত ঝুঁকির কারণ। তাই দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা ও সার্কাডিয়ান রিদমের ব্যাঘাতকে হৃদ্স্বাস্থ্যের আলোচনার বাইরে রাখা যায় না।
তবে রাতের আলো সরাসরি হৃদ্রোগ সৃষ্টি করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আলোর তীব্রতা, ধরন, সংস্পর্শের সময় এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার মতো বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের ঘুমের পরিবেশের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তনের চেষ্টা করা যেতে পারে।
রাতে ভালো ঘুমের জন্য যা করবেন
ঘরের অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ করুন: ঘুমাতে যাওয়ার আগে বেডসাইড ল্যাম্প, টিভি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় আলো নিভিয়ে দিন।
মোবাইল ব্যবহার কমান: ঘুমানোর আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
প্রয়োজনে মৃদু আলো ব্যবহার করুন: নিরাপত্তার জন্য রাতে আলো প্রয়োজন হলে কম উজ্জ্বলতার আলো ব্যবহার করুন। আলো যেন সরাসরি চোখের কাছে না থাকে।
আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন: ঘর শান্ত, আরামদায়ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন।
রাতের অন্ধকার শরীরের জন্য ঘুম ও বিশ্রামের স্বাভাবিক সংকেত। তাই ঘুমানোর সময় যতটা সম্ভব অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করা ভালো। আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস একাই হৃদ্রোগের কারণ নয়, তবে নিয়মিত এ অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।






















