ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মশার ওষুধে কেরোসিন, বর্জ্য সংগ্রহে বাড়তি ফি: ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মশা নিধনের কীটনাশকের বদলে কেরোসিন ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দলের নেতৃত্ব দেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

কীটনাশকের বদলে কেরোসিন ব্যবহারের অভিযোগ

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশনের ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহ ও ব্যবহারে অনিয়ম করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কীটনাশক পরীক্ষার সময় মানসম্মত ওষুধ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় কেরোসিন ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও হিসাব শাখার কর্মীদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে ২০১১ ও ২০১৯ সালে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

পরে প্রতিষ্ঠানটির কথিত মূল হোতা মিজানুর রহমান নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে ডিএসসিসিতে কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য সংগ্রহে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি আদায়

দুদকের অভিযানের আওতায় বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনাও এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী একটি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলি ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের নামে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ব্যবস্থা তথ্য পর্যালোচনার পর

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মশার ওষুধে কেরোসিন, বর্জ্য সংগ্রহে বাড়তি ফি: ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মশা নিধনের কীটনাশকের বদলে কেরোসিন ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দলের নেতৃত্ব দেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

কীটনাশকের বদলে কেরোসিন ব্যবহারের অভিযোগ

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশনের ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহ ও ব্যবহারে অনিয়ম করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কীটনাশক পরীক্ষার সময় মানসম্মত ওষুধ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় কেরোসিন ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও হিসাব শাখার কর্মীদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে ২০১১ ও ২০১৯ সালে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

পরে প্রতিষ্ঠানটির কথিত মূল হোতা মিজানুর রহমান নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে ডিএসসিসিতে কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য সংগ্রহে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি আদায়

দুদকের অভিযানের আওতায় বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনাও এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী একটি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলি ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের নামে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ব্যবস্থা তথ্য পর্যালোচনার পর

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।