ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আমবাগান থেকে ১০ ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি বারুদ সদৃশ পদার্থ উদ্ধার ইইউর পোশাক বাজারে বাংলাদেশের ধাক্কা: ৭ মাসে রফতানি কমেছে ১৩.৬৫% তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে শফিকুল ইসলাম মাসুদ ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, আবেদন করবেন যেভাবে নিয়ম ভেঙে ৫ বোনাস, ১১৬ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশেও নীরবতা ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় আদানি বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়েছিল: রিজভী মাদক কারবারে নেতাদের সম্পৃক্ততা থাকলেও হাত কাঁপানো যাবে না: আইনমন্ত্রী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ, আপত্তি জানানোর শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর অবসরের এক মাস পরই কামব্যাক! ফের আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি, কবে-কোথায়?

অর্থমূল্যের পাশাপাশি কমেছে রফতানির পরিমাণ ও গড় দাম

ইইউর পোশাক বাজারে বাংলাদেশের ধাক্কা: ৭ মাসে রফতানি কমেছে ১৩.৬৫%

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

শুধু রফতানি আয় নয়, ইউরোপে পাঠানো পোশাকের পরিমাণও কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্য। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাত একই সময়ে চাহিদা ও মূল্য—দুই দিক থেকেই চাপের মধ্যে পড়েছে।

তবে পুরো সাত মাসের পরিসংখ্যানের মধ্যে একটি ভিন্ন প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পতন ছিল আরও বেশি—১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জুলাইয়ের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর সেই পতন নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে।

অর্থাৎ টানা পতনের মধ্যেও জুন ও জুলাইয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রফতানির সামগ্রিক পতন কিছুটা কমিয়েছে।

৫৪.৩৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৫১.৬১ বিলিয়ন

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে পতনের মাত্রা স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ইউরো।

২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ইউরোতে।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি মূল্য কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ইউরো।

শতাংশের হিসাবে এই পতন ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এটি শুধু আয় কমে যাওয়ার হিসাব নয়। একই সময়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পোশাকের প্রকৃত পরিমাণও কমেছে।

কেজির হিসাবেও পতন

২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৬৮৯ মিলিয়ন কেজি পোশাক রফতানি করেছিল।

২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০২ মিলিয়ন কেজি। অর্থাৎ এক বছরে রফতানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন কেজি।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রফতানি মূল্য কমার পেছনে শুধু পোশাকের দাম কমে যাওয়াই দায়ী নয়; বিক্রিত বা পাঠানো পোশাকের পরিমাণও কমেছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য ইউরোপের বাজারে চাপটি কেবল মূল্যজনিত নয়, পরিমাণগতও।

কমেছে পোশাকের গড় মূল্যও

রফতানি মূল্য এবং পরিমাণ—দুই তথ্য পাশাপাশি রাখলে আরেকটি প্রবণতা সামনে আসে।

বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্যও কমেছে।

এর অর্থ, একই সময়ে বাংলাদেশের রফতানিকারকেরা একদিকে কম পরিমাণ পণ্য পাঠিয়েছেন, অন্যদিকে প্রতিকেজি পোশাক থেকে আগের তুলনায় কম মূল্য পেয়েছেন।

রফতানি খাতের জন্য এই সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিমাণ কমলে উৎপাদন ও সক্ষমতার ওপর চাপ পড়ে, আর ইউনিট মূল্য কমলে একই পরিমাণ পোশাক রফতানি করেও আয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

চীন-ভিয়েতনামের সঙ্গে ব্যবধানের প্রশ্ন

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনাম গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লিখিত সময়ের পরিসংখ্যানে চীন ও ভিয়েতনাম ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে।

এখানেই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—ইউরোপের ক্রেতাদের সামগ্রিক চাহিদা কমেছে, নাকি বাংলাদেশের অংশে আলাদা কোনো চাপ তৈরি হয়েছে?

শুধু বাংলাদেশের রফতানি কমেছে বলেই পুরো ইউরোপীয় বাজারের সংকোচনকে দায়ী করা যায় না। একই বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সও তুলনায় আনতে হবে।

এই তুলনাই বলে দিতে পারে, বাংলাদেশের পতন কতটা বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ফল আর কতটা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জুন-জুলাইয়ে কী বদলাল?

তবে সাত মাসের পরিসংখ্যানে একটি ইতিবাচক সংকেতও রয়েছে।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছিল ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

জুলাইয়ের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর পতনের হার নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে।

অর্থাৎ জুলাইয়ের রফতানি আগের মাসগুলোর তুলনায় সামগ্রিক পতনকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে জুন ও জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

তবে এটিকে এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চিত লক্ষণ বলা যায় না। কারণ সাত মাসের সামগ্রিক হিসাব এখনো আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে রয়েছে।

একসঙ্গে তিনটি চাপ

ইইউর বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে অন্তত তিনটি চাপ স্পষ্ট করছে—

প্রথমত, রফতানির পরিমাণ কমেছে।
প্রায় ২ হাজার ৬৮৯ মিলিয়ন কেজি থেকে তা নেমে এসেছে ২ হাজার ৬০২ মিলিয়ন কেজিতে।

দ্বিতীয়ত, রফতানি মূল্য কমেছে।
৫৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে তা কমে হয়েছে ৫১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ইউরো।

তৃতীয়ত, গড় মূল্যও কমেছে।
অর্থাৎ কম পরিমাণ পণ্য রফতানির পাশাপাশি প্রতিকেজি পোশাকের মূল্যেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এই তিনটি প্রবণতা একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির বর্তমান অবস্থানকে শুধু ‘সাময়িক পতন’ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

তবু আশার জায়গা জুলাই

পুরো চিত্রটি অবশ্য একমুখী নয়। জুন ও জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, পতনের গতি অন্তত কিছুটা কমেছে। জানুয়ারি-জুনের ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পতন সাত মাসে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে আসা তারই প্রতিফলন।

এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পরবর্তী মাসগুলোর তথ্য।

জুলাইয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সাত মাসের পতন আরও কমতে পারে। আর যদি এটি বিচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে, তাহলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা থাকবে।

তাই এখন মূল নজর শুধু মোট রফতানি আয়ের ওপর নয়—রফতানির পরিমাণ, ইউনিট মূল্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বাজার অবস্থানের ওপরও।

ইইউ বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। ফলে এই বাজারে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ পতন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ রফতানি প্রবণতা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অর্থমূল্যের পাশাপাশি কমেছে রফতানির পরিমাণ ও গড় দাম

ইইউর পোশাক বাজারে বাংলাদেশের ধাক্কা: ৭ মাসে রফতানি কমেছে ১৩.৬৫%

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

শুধু রফতানি আয় নয়, ইউরোপে পাঠানো পোশাকের পরিমাণও কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্য। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাত একই সময়ে চাহিদা ও মূল্য—দুই দিক থেকেই চাপের মধ্যে পড়েছে।

তবে পুরো সাত মাসের পরিসংখ্যানের মধ্যে একটি ভিন্ন প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পতন ছিল আরও বেশি—১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জুলাইয়ের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর সেই পতন নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে।

অর্থাৎ টানা পতনের মধ্যেও জুন ও জুলাইয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রফতানির সামগ্রিক পতন কিছুটা কমিয়েছে।

৫৪.৩৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৫১.৬১ বিলিয়ন

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে পতনের মাত্রা স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ইউরো।

২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ইউরোতে।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি মূল্য কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ইউরো।

শতাংশের হিসাবে এই পতন ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এটি শুধু আয় কমে যাওয়ার হিসাব নয়। একই সময়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পোশাকের প্রকৃত পরিমাণও কমেছে।

কেজির হিসাবেও পতন

২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৬৮৯ মিলিয়ন কেজি পোশাক রফতানি করেছিল।

২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০২ মিলিয়ন কেজি। অর্থাৎ এক বছরে রফতানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন কেজি।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রফতানি মূল্য কমার পেছনে শুধু পোশাকের দাম কমে যাওয়াই দায়ী নয়; বিক্রিত বা পাঠানো পোশাকের পরিমাণও কমেছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য ইউরোপের বাজারে চাপটি কেবল মূল্যজনিত নয়, পরিমাণগতও।

কমেছে পোশাকের গড় মূল্যও

রফতানি মূল্য এবং পরিমাণ—দুই তথ্য পাশাপাশি রাখলে আরেকটি প্রবণতা সামনে আসে।

বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্যও কমেছে।

এর অর্থ, একই সময়ে বাংলাদেশের রফতানিকারকেরা একদিকে কম পরিমাণ পণ্য পাঠিয়েছেন, অন্যদিকে প্রতিকেজি পোশাক থেকে আগের তুলনায় কম মূল্য পেয়েছেন।

রফতানি খাতের জন্য এই সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিমাণ কমলে উৎপাদন ও সক্ষমতার ওপর চাপ পড়ে, আর ইউনিট মূল্য কমলে একই পরিমাণ পোশাক রফতানি করেও আয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

চীন-ভিয়েতনামের সঙ্গে ব্যবধানের প্রশ্ন

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনাম গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লিখিত সময়ের পরিসংখ্যানে চীন ও ভিয়েতনাম ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে।

এখানেই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—ইউরোপের ক্রেতাদের সামগ্রিক চাহিদা কমেছে, নাকি বাংলাদেশের অংশে আলাদা কোনো চাপ তৈরি হয়েছে?

শুধু বাংলাদেশের রফতানি কমেছে বলেই পুরো ইউরোপীয় বাজারের সংকোচনকে দায়ী করা যায় না। একই বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সও তুলনায় আনতে হবে।

এই তুলনাই বলে দিতে পারে, বাংলাদেশের পতন কতটা বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ফল আর কতটা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জুন-জুলাইয়ে কী বদলাল?

তবে সাত মাসের পরিসংখ্যানে একটি ইতিবাচক সংকেতও রয়েছে।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছিল ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

জুলাইয়ের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর পতনের হার নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে।

অর্থাৎ জুলাইয়ের রফতানি আগের মাসগুলোর তুলনায় সামগ্রিক পতনকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে জুন ও জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

তবে এটিকে এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চিত লক্ষণ বলা যায় না। কারণ সাত মাসের সামগ্রিক হিসাব এখনো আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে রয়েছে।

একসঙ্গে তিনটি চাপ

ইইউর বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে অন্তত তিনটি চাপ স্পষ্ট করছে—

প্রথমত, রফতানির পরিমাণ কমেছে।
প্রায় ২ হাজার ৬৮৯ মিলিয়ন কেজি থেকে তা নেমে এসেছে ২ হাজার ৬০২ মিলিয়ন কেজিতে।

দ্বিতীয়ত, রফতানি মূল্য কমেছে।
৫৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে তা কমে হয়েছে ৫১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ইউরো।

তৃতীয়ত, গড় মূল্যও কমেছে।
অর্থাৎ কম পরিমাণ পণ্য রফতানির পাশাপাশি প্রতিকেজি পোশাকের মূল্যেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এই তিনটি প্রবণতা একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির বর্তমান অবস্থানকে শুধু ‘সাময়িক পতন’ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

তবু আশার জায়গা জুলাই

পুরো চিত্রটি অবশ্য একমুখী নয়। জুন ও জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, পতনের গতি অন্তত কিছুটা কমেছে। জানুয়ারি-জুনের ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পতন সাত মাসে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে আসা তারই প্রতিফলন।

এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পরবর্তী মাসগুলোর তথ্য।

জুলাইয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সাত মাসের পতন আরও কমতে পারে। আর যদি এটি বিচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে, তাহলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা থাকবে।

তাই এখন মূল নজর শুধু মোট রফতানি আয়ের ওপর নয়—রফতানির পরিমাণ, ইউনিট মূল্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বাজার অবস্থানের ওপরও।

ইইউ বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। ফলে এই বাজারে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ পতন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ রফতানি প্রবণতা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।