ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরিজন পরিবার থেকে উঠে এসে  শিক্ষার বিভাগীয় প্রধান সুমা বাঁসফোর ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ফখরুলের ভাইসহ ৩ জন চিরকুটে পাওনা টাকার কথা লিখে গিয়েছিলেন পুলক, মৃত্যুর পর মিলল ১০ লাখ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝালকাঠিতে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, ৮ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান বিয়ের দাবিতে কলেজছাত্রীর অনশন, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের আসিফের অর্থপাচারের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে চিঠি দেবে দুদক নিমাই শাহ মাজারে মাদকসেবীদের আড্ডা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের শঙ্কা

ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাতজনই পলাতক।

রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শেখ ফজলে শামস পরশ ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাঁর হলফনামাভিত্তিক সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য চারজনের ঘোষিত সম্পদের চিত্র তুলে ধরা হলো।

ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদের যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার।

তাঁর একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম দেখানো হয় দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ছিল।

সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে। হলফনামায় ওই জমির মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৫১ লাখ টাকা।

নাছিমের সম্পদ ৩৫ কোটি টাকার বেশি

২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের হলফনামায় মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য দেখানো হয় ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার।

তাঁর দুটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম দেখানো হয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় সোয়া ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গুলশানে অ্যাপার্টমেন্টসহ আরাফাতের সম্পদ

ঢাকা-১৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাতের হলফনামায় নিজের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

নিজের নামে এর বাইরে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।

সব মিলিয়ে নিজের নামে আরাফাতের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত সম্পদের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

জমি-গাড়ি-এফডিআরে নিখিলের সম্পদ

ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষিজমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।

একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা।

এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে রয়েছে ১ কোটি টাকার এফডিআর। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে।

তাঁর তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

হলফনামার হিসাবে নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত

ট্রাইব্যুনালের রায়ের ফলে এই চার নেতার হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হওয়ার আওতায় পড়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়ার নির্দেশ আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাতজনই পলাতক।

রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শেখ ফজলে শামস পরশ ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাঁর হলফনামাভিত্তিক সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য চারজনের ঘোষিত সম্পদের চিত্র তুলে ধরা হলো।

ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদের যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার।

তাঁর একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম দেখানো হয় দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ছিল।

সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে। হলফনামায় ওই জমির মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৫১ লাখ টাকা।

নাছিমের সম্পদ ৩৫ কোটি টাকার বেশি

২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের হলফনামায় মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য দেখানো হয় ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার।

তাঁর দুটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম দেখানো হয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় সোয়া ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গুলশানে অ্যাপার্টমেন্টসহ আরাফাতের সম্পদ

ঢাকা-১৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাতের হলফনামায় নিজের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

নিজের নামে এর বাইরে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।

সব মিলিয়ে নিজের নামে আরাফাতের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত সম্পদের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

জমি-গাড়ি-এফডিআরে নিখিলের সম্পদ

ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষিজমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।

একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা।

এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে রয়েছে ১ কোটি টাকার এফডিআর। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে।

তাঁর তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

হলফনামার হিসাবে নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত

ট্রাইব্যুনালের রায়ের ফলে এই চার নেতার হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হওয়ার আওতায় পড়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়ার নির্দেশ আসে।