ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিমাই শাহ মাজারে মাদকসেবীদের আড্ডা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের শঙ্কা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাথরঘাটা নিমাই শাহ মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ ও আড্ডায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাজারসংলগ্ন একটি ঘরে নিয়মিত বসছে মাদক সেবনের আসর। এতে মাজারের ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মাজারটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। প্রতিবছর সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্নি’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে নদীতে স্নানের পর নারীদের পোশাক পরিবর্তনের সুবিধার্থে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নদীর তীরে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

উৎসবের সময় ঘরটি ব্যবহার করা হলেও বছরের বাকি সময় সাধারণত সেটি বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে মাদকসেবীরা ঘরটির তালা ভেঙে সেটিকে মাদক সেবনের আড্ডায় পরিণত করেছে।

সন্ধ্যা হলেই বাড়ে আনাগোনা

স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ওই ঘরে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। একের পর এক লোক সেখানে ঢোকেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা।

মাজার এলাকায় এ ধরনের অবাধ বিচরণের কারণে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মাদকসেবীদের আড্ডা শুরুর পর এলাকায় চুরির ঘটনাও বেড়েছে।

কিছুদিন আগে মাজারের সিন্দুক ভেঙে দানের টাকা চুরি করা হয়। এর এক-দুই দিনের মধ্যেই মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকেও ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

‘তাদের কিছু বলাও যায় না’

মাজার দেখভালের দায়িত্বে থাকা বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘মাজার এলাকায় নেশাখোরদের আড্ডা হওয়ায় চুরি বেড়েছে। তাদের কিছু বলাও যায় না।’

স্থানীয়দের দাবি, মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনার পবিত্র পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া তালা মেরামত করে নারীদের পোশাক পরিবর্তনের ঘরটি নিরাপদ করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী বলছেন, মাজার এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এতে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও কমবে বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিমাই শাহ মাজারে মাদকসেবীদের আড্ডা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের শঙ্কা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাথরঘাটা নিমাই শাহ মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ ও আড্ডায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাজারসংলগ্ন একটি ঘরে নিয়মিত বসছে মাদক সেবনের আসর। এতে মাজারের ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মাজারটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। প্রতিবছর সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্নি’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে নদীতে স্নানের পর নারীদের পোশাক পরিবর্তনের সুবিধার্থে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নদীর তীরে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

উৎসবের সময় ঘরটি ব্যবহার করা হলেও বছরের বাকি সময় সাধারণত সেটি বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে মাদকসেবীরা ঘরটির তালা ভেঙে সেটিকে মাদক সেবনের আড্ডায় পরিণত করেছে।

সন্ধ্যা হলেই বাড়ে আনাগোনা

স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ওই ঘরে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। একের পর এক লোক সেখানে ঢোকেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা।

মাজার এলাকায় এ ধরনের অবাধ বিচরণের কারণে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মাদকসেবীদের আড্ডা শুরুর পর এলাকায় চুরির ঘটনাও বেড়েছে।

কিছুদিন আগে মাজারের সিন্দুক ভেঙে দানের টাকা চুরি করা হয়। এর এক-দুই দিনের মধ্যেই মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকেও ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

‘তাদের কিছু বলাও যায় না’

মাজার দেখভালের দায়িত্বে থাকা বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘মাজার এলাকায় নেশাখোরদের আড্ডা হওয়ায় চুরি বেড়েছে। তাদের কিছু বলাও যায় না।’

স্থানীয়দের দাবি, মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনার পবিত্র পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া তালা মেরামত করে নারীদের পোশাক পরিবর্তনের ঘরটি নিরাপদ করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী বলছেন, মাজার এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এতে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও কমবে বলে মনে করছেন তারা।