ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, ৮ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহণ ও মজুদ করার পাশাপাশি বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নজরদারিতে প্রজনন এলাকা

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হবে। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত ঠেকাতে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই মাছ ধরা বা বাজারজাতের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলেদের দেওয়া হবে ভিজিএফ সহায়তা

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে। সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলেদের এসব জাল না কেনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

ইলিশ আমদানি নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিমান বাহিনী, নৌপুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, ৮ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহণ ও মজুদ করার পাশাপাশি বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নজরদারিতে প্রজনন এলাকা

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হবে। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত ঠেকাতে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই মাছ ধরা বা বাজারজাতের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলেদের দেওয়া হবে ভিজিএফ সহায়তা

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে। সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলেদের এসব জাল না কেনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

ইলিশ আমদানি নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিমান বাহিনী, নৌপুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।