ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ সাবেক ওসি আটক, একাধিক বিয়ের অভিযোগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে এক নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাহবুব আলম দাবি করেছেন, আটক নারী তাঁর স্ত্রী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।
যেভাবে ফ্ল্যাটে অভিযান
জানা গেছে, মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফ্ল্যাটটিতে মাহবুব আলম ও এক নারী অবস্থান করছিলেন।
আন্নি আক্তারের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে অন্য এক নারীও রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে তিনি সেখানে পৌঁছে দরজায় কড়া নাড়েন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।
পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মাহবুব আলম ভেতরে রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি বলে দাবি করেন আন্নি। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভাঙার পর মাহবুব আলম ও ওই নারীকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
স্ত্রী পরিচয় ও তালাক নিয়ে বিরোধ
থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম বলেন, আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আটক নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
আন্নি আক্তার জানান, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্নির দাবি, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে তিনি মাহবুবের সঙ্গে ওই নারীকে দুই দিন পেয়েছিলেন। সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে তখন বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান আন্নি।
তবে মাহবুব আলমের দাবি, তিনি আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। যদিও আন্নি বলেছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।
সাবেক ওসির বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ
মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, তিনি কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে না জানিয়েই তিনি রাজশিয়ায় গেছেন। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
























