পদোন্নতিতে দক্ষতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা ও বিশ্বস্ততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাঁদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নৌ ও বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতা এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ও বীর সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিমান বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা পরিদর্শন
নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনের পর বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে এর বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এরপর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমান প্রতিহত করার কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম থেকে ড্রোনের লাইভ ফিডে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের দৃশ্য দেখানো হয়।
পরে বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন—কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।
নিজস্ব প্রযুক্তিতে আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতাকে বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।





















