হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। বুধবার গভীর রাতে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁকে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরাই তাঁকে কারাগারে ফেরানোর বিষয়ে মত দেন। এরপর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে আবার আদিয়ালা জেলে নেওয়া হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে কারাগারে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান। দীর্ঘ কয়েক মাস পর হঠাৎ তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে হাসপাতালে স্থানান্তরের আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরে চিকিৎসা পরীক্ষা হওয়ায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁর আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, কারাগারে থাকার সময় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং বিশেষ করে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনেই বুধবার মধ্যরাতে তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পিটিআই সমর্থকরা সেখানে ভিড় করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় হাসপাতাল ঘিরে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপরও দলের বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থক হাসপাতালের আশপাশে জড়ো হন।
জেলে বোন ও বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ
হাসপাতালে নেওয়ার আগে বুধবার কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন তাঁর বোন নোরিন নিয়াজি। তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, বোনের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট সাক্ষাৎ করেন ইমরান। তবে জেলের কনফারেন্স রুমে তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ইমরানকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকায় পরিবার এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, আদালতের নির্দেশ, হাসপাতাল স্থানান্তর এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার কারাগারে ফেরত—সব মিলিয়ে ইমরান খানের বন্দিজীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে।




















