ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের বাজারে ফের চাপ, মাছ-মুরগি-ডিমের দামে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাছ-মুরগি-ডিমের দামে নাভিশ্বাস, রাজধানীর বাজারে চাপে ক্রেতারা

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও ডিমের চড়া দামে বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ মাছের দাম এখন ২০০ টাকা কেজির ওপরে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি এবং ডিমের ডজন গুনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাংসের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। কেজিপ্রতি ব্রয়লার ১৯০, সোনালি মুরগি ৩২০ এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম রয়েছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের ডজন গুনতে হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।

২০০ টাকার নিচে মাছ মিলছে কম

মাছের বাজারে তুলনামূলক কম দামের মাছও এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, পোয়া ২৬০ এবং চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা কেজি। বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে নদীর মাছ, রূপচাঁদা ও শোল কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে আরও বেশি টাকা।

ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। আগের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। কয়েক ধরনের সবজির দাম বেশি থাকলেও অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

এক ক্রেতা বলেন, “২০০ টাকার মধ্যে এখন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। আমাদের আয় তো সেভাবে বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে।”

আরেক ক্রেতার ভাষ্য, আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই সেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিত্যপণ্যের বাজারে ফের চাপ, মাছ-মুরগি-ডিমের দামে অস্বস্তি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মাছ-মুরগি-ডিমের দামে নাভিশ্বাস, রাজধানীর বাজারে চাপে ক্রেতারা

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও ডিমের চড়া দামে বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ মাছের দাম এখন ২০০ টাকা কেজির ওপরে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি এবং ডিমের ডজন গুনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাংসের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। কেজিপ্রতি ব্রয়লার ১৯০, সোনালি মুরগি ৩২০ এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম রয়েছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের ডজন গুনতে হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।

২০০ টাকার নিচে মাছ মিলছে কম

মাছের বাজারে তুলনামূলক কম দামের মাছও এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, পোয়া ২৬০ এবং চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা কেজি। বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে নদীর মাছ, রূপচাঁদা ও শোল কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে আরও বেশি টাকা।

ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। আগের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। কয়েক ধরনের সবজির দাম বেশি থাকলেও অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

এক ক্রেতা বলেন, “২০০ টাকার মধ্যে এখন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। আমাদের আয় তো সেভাবে বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে।”

আরেক ক্রেতার ভাষ্য, আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই সেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।