শুধু ধোঁয়ায় দমবন্ধ নয়, ‘শিখা ইন’-এর মৃতদের শরীরেও পোড়ার চিহ্ন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
কলকাতার নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মৃত্যু নিয়ে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই সবার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিহতদের শরীরে পোড়ার চিহ্নও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলটিতে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আবাসিকরা বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়েন। শ্বাসের সঙ্গে বিষাক্ত গ্যাস শরীরে প্রবেশ করে একপর্যায়ে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের কাছে দেওয়া বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ভেতরে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়া আবাসিকদের শরীর তীব্র তাপের সংস্পর্শে আসায় পোড়ার চিহ্ন তৈরি হয়। তবে তাঁরা সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা যাননি।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘পেরি মর্টাম’ পরিস্থিতির সঙ্গে ব্যাখ্যা করছেন। অর্থাৎ মৃত্যুর ঠিক আগের সময়ে অচেতন অবস্থায় থাকায় শরীরে পোড়ার চিহ্ন তৈরি হলেও তা অনুভব করার মতো অবস্থায় ছিলেন না তাঁরা। এ কারণেই কোনো আর্তনাদ বা সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত্যুর মূল কারণ বিষাক্ত গ্যাস
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন থাকলেও মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরোধ।
আগুন লাগার পর হোটেলের ভেতরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। কেউ জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধোঁয়ার তীব্রতায় অনেকেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আবাসিকদের বের করে আনেন।
পুলিশের ধারণা, সরাসরি আগুনে ঝলসে কারও মৃত্যু হয়নি। বরং বিষাক্ত ধোঁয়া ও কার্বন মনোক্সাইডের প্রভাবে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। আগুনের তীব্র তাপে পরে মৃতদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন তৈরি হয়।
নিহত ৯, বাংলাদেশি ৮
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ভেতরে বেশ কয়েকজন আবাসিক আটকা পড়েন।
পুলিশ ও দমকলের তৎপরতায় অনেকে উদ্ধার পেলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। অপরজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই হোটেলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর এখন ময়নাতদন্তের তথ্য সামনে আসায় মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




















