ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন, শেষ বিদায়ে রেখে গেলেন কান্নাভেজা ভিডিওবার্তা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ভালোবাসার টানে চার বছর আগে পরিবারের অমত উপেক্ষা করে সংসার শুরু করেছিলেন মেঘনা খাতুন। সেই সংসারেই ধীরে ধীরে জমতে থাকে অশান্তি, অভিযোগ আর মানসিক কষ্ট। শেষ পর্যন্ত নিজের মৃত্যুর আগে একটি ভিডিওবার্তায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং পরকীয়ার অভিযোগ তুলে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন ২১ বছর বয়সী এই গৃহবধূ।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর আগে ধারণ করা মেঘনার আবেগঘন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেঘনা খাতুন। এর আগে রোববার (২ আগস্ট) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মেঘনা কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কের পর চার বছর আগে মোটর মেকানিক আজম আলী মণ্ডলকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি ছোট ছেলে রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বাড়তে থাকে।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে মেঘনা অভিযোগ করেন, তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছিল। তিনি স্বামী আজম আলী, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং আসলাম নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেন, তার মৃত্যুর জন্য তারা দায়ী। ভিডিওতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরেছিলেন।
সব অভিযোগের মাঝেও ভিডিওর সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশ ছিল তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি নিজের শিশুসন্তানের কথা বলেন। একই সঙ্গে স্বামীর উদ্দেশে আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো। তোমাকে অনেক ভালোবেসে পরিবার ছেড়ে এসেছিলাম। আর মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারছি না।”
তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার পর অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি ভালোবাসার গল্পের এমন মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, রেখে গেল অসংখ্য প্রশ্নও। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘিরে সেই ছোট্ট শিশুকে—যে হয়তো এখনো জানেই না, তার মায়ের শেষ ভিডিওবার্তাটি একদিন তার জীবনজুড়ে বেদনার এক স্থায়ী দলিল হয়ে থাকবে।




















