ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসি; ভুক্তভোগী পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ বন্যাদুর্গত চট্টগ্রামের ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কুলাউড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ইউপি সদস্যকে জরিমানা ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবিতে যশোরে অবস্থান কর্মসূচি মণিরামপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা অভয়নগরে বাড়তি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা শেখ হাসিনা দেশে এলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ লটারিতে বদলি গণপূর্তের আরও ২৫৪ উপ-সহকারী প্রকৌশলী, কোন বিভাগে কতজন? জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর, সরকারি ভবনে বসবে সৌর প্যানেল

গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসি; ভুক্তভোগী পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং গুমের কারণে মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইনটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

গুমে মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসি বা যাবজ্জীবন

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পার হলেও ওই ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

ভুক্তভোগী পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন

আইনটিতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং সরকারি আইনি সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এছাড়া তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকারও ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হবে।

তদন্ত ও বিচার শেষ করতে সময়সীমা

নতুন আইনে গুমের মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ ও সম্পত্তির সুরক্ষা

খসড়া আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য তাঁর সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সুবিধার্থে গুম সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্যভাণ্ডার

আইনটিতে গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই আইন মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসি; ভুক্তভোগী পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং গুমের কারণে মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইনটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

গুমে মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসি বা যাবজ্জীবন

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পার হলেও ওই ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

ভুক্তভোগী পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন

আইনটিতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং সরকারি আইনি সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এছাড়া তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকারও ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হবে।

তদন্ত ও বিচার শেষ করতে সময়সীমা

নতুন আইনে গুমের মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ ও সম্পত্তির সুরক্ষা

খসড়া আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য তাঁর সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সুবিধার্থে গুম সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্যভাণ্ডার

আইনটিতে গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই আইন মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।