ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনা দেশে এলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ লটারিতে বদলি গণপূর্তের আরও ২৫৪ উপ-সহকারী প্রকৌশলী, কোন বিভাগে কতজন? জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর, সরকারি ভবনে বসবে সৌর প্যানেল মানবাধিকারের বুলি, বাস্তবতায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতা পাউরুটি খেয়ে মৃত্যুকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ দেখিয়ে মামলা, চাঁদে আছড়ে পড়ছে স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট, কী ঘটবে এরপর? বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো, কী থাকছে আয়োজনে রূপপুর থেকে কবে মিলবে বিদ্যুৎ, পারমাণবিক বর্জ্য যাবে কোথায়? ইউরোপে বেতন কত? ১০ লাখ ইউরোর বাড়ি কিনতে বছরে কত আয় দরকার

তদন্তে অব্যাহতি পেলেন শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জন

পাউরুটি খেয়ে মৃত্যুকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ দেখিয়ে মামলা,

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ায় পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে করা মামলায় তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলিতে নয়, বরং পাউরুটি খাওয়ার সময় গলায় আটকে অসুস্থ হয়ে রিপন ফকিরের মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ফেরদৌস আলী গত জুলাই মাসে বগুড়ার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলায় কী অভিযোগ ছিল?

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নিহত রিপন ফকিরের স্ত্রী মাবিয়া বেগম বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়া শহরের ঝাউতলা এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রিপন ফকির মারা যান। মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খানসহ মোট ১০৪ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শীর্ষ আসামিদের উসকানিতে হামলার ঘটনা ঘটে।

তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন তথ্য

তদন্তে ২২ জন সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কথিত ঘটনার সময় ঝাউতলা এলাকার দোকানপাট ১ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

এলাকার তিনজন দোকানকর্মী তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, ওই সময় সেখানে গুলিবর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা তারা দেখেননি।

এছাড়া বাদীসহ সাতজন সাক্ষী জবানবন্দিতে বলেন, ৫ আগস্ট গোদারপাড়া এলাকায় পাউরুটি খাওয়ার সময় রিপন ফকিরের গলায় খাবার আটকে যায়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

ঘটনার সময় উপস্থিত দোকানিও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি অনুদানের আশায় মামলা

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী মাবিয়া বেগম তদন্তে জানান, ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন তাকে বলেন, মামলা করলে রিপন ফকিরকে ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে এবং সরকারি অনুদান পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, সেই আশাতেই থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস আলী বলেন, মামলার এজাহারে তথ্যগত অসঙ্গতি ছিল। তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সে কারণে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তদন্তে অব্যাহতি পেলেন শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জন

পাউরুটি খেয়ে মৃত্যুকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ দেখিয়ে মামলা,

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ায় পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে করা মামলায় তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলিতে নয়, বরং পাউরুটি খাওয়ার সময় গলায় আটকে অসুস্থ হয়ে রিপন ফকিরের মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ফেরদৌস আলী গত জুলাই মাসে বগুড়ার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলায় কী অভিযোগ ছিল?

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নিহত রিপন ফকিরের স্ত্রী মাবিয়া বেগম বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়া শহরের ঝাউতলা এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রিপন ফকির মারা যান। মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খানসহ মোট ১০৪ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শীর্ষ আসামিদের উসকানিতে হামলার ঘটনা ঘটে।

তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন তথ্য

তদন্তে ২২ জন সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কথিত ঘটনার সময় ঝাউতলা এলাকার দোকানপাট ১ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

এলাকার তিনজন দোকানকর্মী তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, ওই সময় সেখানে গুলিবর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা তারা দেখেননি।

এছাড়া বাদীসহ সাতজন সাক্ষী জবানবন্দিতে বলেন, ৫ আগস্ট গোদারপাড়া এলাকায় পাউরুটি খাওয়ার সময় রিপন ফকিরের গলায় খাবার আটকে যায়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

ঘটনার সময় উপস্থিত দোকানিও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি অনুদানের আশায় মামলা

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী মাবিয়া বেগম তদন্তে জানান, ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন তাকে বলেন, মামলা করলে রিপন ফকিরকে ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে এবং সরকারি অনুদান পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, সেই আশাতেই থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস আলী বলেন, মামলার এজাহারে তথ্যগত অসঙ্গতি ছিল। তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সে কারণে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।