ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ইতিহাসের অংশ নন; তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার এক অমলিন উৎস। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্য-দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ থাকেন, যারা সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় গভীর প্রভাব রেখে যান। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বিস্তৃত।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম—সব ক্ষেত্রেই নজরুলের সৃষ্টিকর্ম অনন্য। পরাধীনতা, শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল প্রতিবাদের শক্তিশালী অস্ত্র।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে নজরুলের ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’-র মতো রচনাগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান মর্যাদা পাবে। বর্তমান সরকারও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছে।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে নজরুল গবেষক, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারি আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে নজরুলচর্চার সঙ্গে যুক্ত গবেষক ও অনুরাগীদের এমন আয়োজনে বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ইতিহাসের অংশ নন; তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার এক অমলিন উৎস। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্য-দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ থাকেন, যারা সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় গভীর প্রভাব রেখে যান। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বিস্তৃত।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম—সব ক্ষেত্রেই নজরুলের সৃষ্টিকর্ম অনন্য। পরাধীনতা, শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল প্রতিবাদের শক্তিশালী অস্ত্র।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও নতুন প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে নজরুলের ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’-র মতো রচনাগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান মর্যাদা পাবে। বর্তমান সরকারও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছে।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে নজরুল গবেষক, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারি আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে নজরুলচর্চার সঙ্গে যুক্ত গবেষক ও অনুরাগীদের এমন আয়োজনে বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।