প্রাথমিক শিক্ষকে বদলি: চার স্তরের কমিটি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে চার স্তরের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা উদ্বেগ ও প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অনলাইনভিত্তিক বদলি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেখানে অনিয়ম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন কমিটিনির্ভর পদ্ধতি আবারও তদবির, প্রভাব ও জটিলতা বাড়াতে পারে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া এখন চার ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে— উপজেলা বা থানা পর্যায়ের কমিটি, জেলা কমিটি, বিভাগীয় কমিটি এবং জাতীয় কমিটি।
উপজেলা পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্ব দেবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি), বিভাগীয় কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার এবং জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা, বিভাগ ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ সদস্য হিসেবে থাকবেন। আন্তঃবিভাগ বা আন্তঃসিটি কর্পোরেশন বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে জাতীয় কমিটি। নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটিকে।
তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বলছে, বদলি প্রক্রিয়ায় বাইরের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নতুন করে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র নির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের মতে, শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ, দুর্গম এলাকায় কর্মকাল, দূরত্ব ও প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্বচ্ছতা বাড়ে। কিন্তু কমিটিনির্ভর ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা তদবিরের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর আগে অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের সুযোগ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সাধারণ বদলি বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষক ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান কমিটি ব্যবস্থা সাময়িক। পূর্ণাঙ্গ বদলি নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটিগুলো দায়িত্ব পালন করবে।
দেশে প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে চার লাখ শিক্ষক ও এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, শিক্ষক বদলির জন্য এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রভাবমুক্ত নীতিমালা প্রয়োজন, যেখানে যোগ্যতা, প্রয়োজন ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


















