ঝুঁকিতে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলো
বর্ষায় পাহাড় ধসের আতঙ্কে লাখো রোহিঙ্গা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লাখো মানুষ। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ বসতিগুলোতে ভারী বৃষ্টি হলেই বাড়ে আতঙ্ক। প্রতিবছরই পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও এখনো ঝুঁকি কাটেনি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির কুতুপালং মেগাক্যাম্পের ৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ের ঢাল কেটে গড়ে উঠেছে শত শত ঘরবাড়ি। বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ঝুঁকি কমাতে বালুর বস্তা ও ত্রিপল ব্যবহার করা হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না পরিস্থিতি।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি শুরু হলেই তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। রাতেও অনেকে আতঙ্কে জেগে থাকেন।
ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, “বৃষ্টি হলেই ভয় লাগে। পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রাতে জেগে থাকি।”
শুধু ক্যাম্প-৪ নয়, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ৮টি ক্যাম্প পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাস করছে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। ফলে ভারী বর্ষণ হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ক্যাম্প-৯ এর বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন বলেন, “পাহাড়ের ওপর ঘর করেছি। এখন পাহাড়ের ওপরেও ঘর, নিচেও ঘর। কখন পাহাড় ধসে পড়ে সেই ভয় থাকে।”
ক্যাম্প-১০ এর বাসিন্দা দিলদার বেগম বলেন, “প্রতিবছর বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসে মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সবসময় আতঙ্কে থাকি।”
ঘনবসতি, অপরিকল্পিত বসতি ও প্রাকৃতিক ঝুঁকির কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভূমিধসের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি কমানো ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে আরও সহায়তা প্রয়োজন।
ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, অনেক মানুষ এমন জায়গায় বসবাস করছেন যেখানে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। শুধু জরুরি সহায়তা নয়, আগাম প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিনিয়োগ জরুরি।
এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, বর্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি ক্যাম্পে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
















