ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের আওতার বাইরে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতির দাবি করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে কাঁচাবাজার ও ছোট মুদি দোকানকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজস্ব খাতে গতি ফিরেছে। করের হার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা ও করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে (ফ্ল্যাট রেটে) ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে এই ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে রাখা হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার কথা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, করনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ, অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা দূর করা এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের আওতার বাইরে: অর্থমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতির দাবি করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে কাঁচাবাজার ও ছোট মুদি দোকানকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজস্ব খাতে গতি ফিরেছে। করের হার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা ও করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে (ফ্ল্যাট রেটে) ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে এই ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে রাখা হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার কথা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, করনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ, অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা দূর করা এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।