আমি নারী, কিসের ভয় আমার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
শৈশব পেরিয়েছি, স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা পেরিয়েছি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে। তারপর একদিন এক অজানা, অচেনা মানুষের সাথে বেঁধে দেওয়া হলো জীবন। নতুন পরিবার, নতুন পরিবেশ—সবকিছুর সাথে বাস্তবতার কঠিন লড়াইয়ে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছি।
কতো শতবার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে হাসিমুখে মানিয়ে নিতে হয়েছে অন্যের মন জোগাতে! নিজের সাথে নিজের সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়াটা সহজ ছিল না। স্বামীর ঘরে এসে বিলিয়ে দিয়েছি নিজের রূপ, যৌবন আর সৌন্দর্য। সন্তানের জন্ম দিয়েছি—সে যে কতো তীব্র, কতো কঠিন এক বাস্তবতা! নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাইয়েছি, নিজের শখ-আহ্লাদ, ইচ্ছা-প্রত্যাশাকে বিসর্জন দিয়েছি তাদের মানুষ করার স্বপ্নে।
কঠিন থেকে কঠিনতর বাস্তবতাকে যে বহুবার একাই মোকাবেলা করেছে, তার আর হারাবার কী-ই বা বাকি আছে?
তাই হে স্বামী,তুমি আমাকে কিসের ভয় দেখাও-ঃ
মনে করিয়ে দেই, এই পুরুষশাসিত সমাজ নারীকে সবসময় বন্দি, দাসী আর ভোগের সামগ্রী হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু ভুলে যেও না, সৃষ্টির অর্ধেক অবদান যদি নরের হয়, তবে বাকি অর্ধেকটা এই নারীর। প্রবাদে হয়তো বলা হয়—“নারী দেবী, এরা লোভী, যত পুজো পায় তত পুজো চায়।” কিন্তু হে পুরুষ, জেনে রেখো, এই নারীই তোমার মা, বোন, কন্যা এবং স্ত্রী। তোমার নিজের সৃষ্টিও তো এই নারীর উদরে!
তাই আজ কঠোর ভাষায় বলতে চাই, নারীকে আর ভোগের সামগ্রী হিসেবে দেখার ধৃষ্টতা দেখিও না। নারীকে ভয় বা হুমকি না দিয়ে মর্যাদা দিতে শেখো। পুরুষশাসিত সমাজ যদি নারীকে তার উপযুক্ত সম্মান দেয়, তবে তাতে পুরুষ জাতিরই সম্মান বাড়বে।
দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর পেরিয়ে যুগ কেটে যায়। রন্ধ্রে রন্ধ্রে, অনুভবে-অনুভূতিতে জাগে এক গভীর কৃত্রিম ভাবনা। এই পৃথিবীটা যেন এক অতিথি শালা, অথচ এখানেই ভালোবাসার উৎপত্তিস্থল। অনুভবে যে অনুভূতি জাগে, তা-ই যেন সমস্ত ধ্বংস আর সৃষ্টির মূল কারিগর।
এক জ্বলন্ত অনন্তকাল ধরে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ—সব দিক নির্দিষ্ট নিয়মে রূপান্তরিত হচ্ছে। দিকহারা কোনো উল্কার মতো অনন্তকালের সীমার অতীতে, চেনা-অচেনা জ্ঞানের সীমানায় যা কিছু মলিন, তা-ই আবার নতুন রূপে জেগে ওঠে।
যখন পৃথিবীর নিজস্ব গতিতে সমস্ত রাতের ক্লান্তি শেষে পশ্চিম আকাশে চাঁদটা হেলে পড়ে, রুদ্র এবং প্রচণ্ড গতিবেগে জনহীন মাঠের প্রান্তে, এক গ্রাম্য আবহে আমি এসে দাঁড়িয়েছি। অকারণে এক সহজ, সরল প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা মন নিয়ে এই কঠিন শেষ রাতে হঠাৎ আলোর দেখা মিলল।
অন্ধকার প্রহর কেটে যাচ্ছে। রাতের চাঁদের সেই মলিন অথচ চিকচিকে মিষ্টি মুখের দিকে তাকালাম। নরম মনের সেই চেনা হাতদুটি যখন আলতো করে ধরি, তখন পার্শ্ববর্তী সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দেয়।
নারী কোনো ভয় নয়, নারী এক শাশ্বত সৃষ্টি।বিয়ের পর নিজের রূপ-সৌন্দর্য হারানো বা নিজের শখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে খাওয়ানোর মতো বিষয়গুলো সমাজের এক নির্মম কিন্তু চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরে। সময় (সেকেন্ড, মিনিট, বছর), দিক (পূর্ব-পশ্চিম) এবং প্রকৃতির (চাঁদ, অন্ধকার প্রহর) সাথে নারীর ভেতরের ভাঙাগড়ার খেলাকে মেলালে তা এক অনন্য রূপ।




















