কড়াইল বস্তিতে হবে ফ্ল্যাট, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট দূর করতে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি স্থানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ১ লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে দেশজুড়ে ‘শুদ্ধি অভিযান’ ও উপকারভোগী যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানানো হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য দেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ অনুযায়ী কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১ লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বস্তিবাসীর জন্য উন্নত আবাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রামের সল্টগোলা এলাকায় চউকের জমিতে মাসিক ভাড়াভিত্তিক আবাসন প্রকল্প নিয়েও কাজ চলছে।
এদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম বন্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানোর কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন ভাতা বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। প্রকৃত অসহায় ও যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করতে এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে ডেটাবেইস যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ এবং মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতার ক্ষেত্রেও সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ করার পাশাপাশি ভাতা ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে নারী প্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

















