ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইতালিতে প্রবাসী পরিবার হত্যাকাণ্ড: বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বজনদের

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবিকার সন্ধানে ২০১০ সালে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল। প্রবাসে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সুখের সংসার। কিন্তু দুর্বৃত্তের হামলায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল সেই স্বপ্ন।

ইতালির রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে নিজ বাসায় স্ত্রী ও কন্যাসহ নিহত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছেলে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে বাবুলের প্রবাসী বন্ধু একই এলাকার শাহাদাত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ফুফাতো বোনের জামাই আমিন উল্যার সহযোগিতায় ইতালিতে যান বাবুল। এর আগে একই ইউনিয়নের মমতাজ বেগম আরজুকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে ছিল এক ছেলে ও এক মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে তারা জানতে পারেন, ইতালির রোমের কাছাকাছি ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় বাইরে থেকে বাসায় ফিরে ছেলে আমির হোসেন অয়ন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও গুরুতর আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অয়ন বর্তমানে ইতালির জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের বাবা সিরাজ আলম অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে একই এলাকার ইতালি প্রবাসী শাহাদাত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ ঘটনায় ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে একসঙ্গে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। স্বজন ও এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইতালিতে প্রবাসী পরিবার হত্যাকাণ্ড: বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বজনদের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

জীবিকার সন্ধানে ২০১০ সালে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল। প্রবাসে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সুখের সংসার। কিন্তু দুর্বৃত্তের হামলায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল সেই স্বপ্ন।

ইতালির রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে নিজ বাসায় স্ত্রী ও কন্যাসহ নিহত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছেলে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে বাবুলের প্রবাসী বন্ধু একই এলাকার শাহাদাত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ফুফাতো বোনের জামাই আমিন উল্যার সহযোগিতায় ইতালিতে যান বাবুল। এর আগে একই ইউনিয়নের মমতাজ বেগম আরজুকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে ছিল এক ছেলে ও এক মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে তারা জানতে পারেন, ইতালির রোমের কাছাকাছি ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় বাইরে থেকে বাসায় ফিরে ছেলে আমির হোসেন অয়ন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও গুরুতর আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অয়ন বর্তমানে ইতালির জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের বাবা সিরাজ আলম অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে একই এলাকার ইতালি প্রবাসী শাহাদাত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ ঘটনায় ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে একসঙ্গে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। স্বজন ও এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।