ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা সীমান্তে মাদকের ‘রাজপথ’, ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে সক্রিয় চক্র

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত সীমান্তঘেঁষা কুমিল্লা এখন মাদক পাচারের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার পাঁচ উপজেলার অর্ধশতাধিক সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ঢুকছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হুইস্কিসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। পরে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লার সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ১০৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাদক ও চোরাচালান। এসব এলাকার মধ্যে ১২টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবির তালিকায় থাকা হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি ও তেতাভূমি, বুড়িচং উপজেলার ছয়গ্রাম, চড়ানল, ভাল্লক, বাঁশতলী ও নারায়ণপুর, চৌদ্দগ্রামের আমানগন্ডা, কুমিল্লা সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ও নিশ্চিন্তপুর এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর, যশপুর ও সূর্যনগর এলাকা।

এ ছাড়া বৌয়ারা, যাত্রাখিল, একবালিয়া, জয়নগর, মুড়াপাড়া, কচুয়ারপাড়, ধনপুর ও সুবর্ণপুরসহ আরও বেশ কিছু সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মাদক ও চোরাচালান চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করেই মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। তবে পুলিশ ও বিজিবি বলছে, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে কুমিল্লায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৯২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪২৫টি।

বিজিবি জানায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি থেকে সালদা পর্যন্ত সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওইসব খোলা এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশের ঝুঁকি বেশি। এসব মাদক কখনো সড়কপথে, কখনো রেলপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়।

মাদক পরিবহনের বড় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশও। বিভিন্ন সময়ে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও দপ্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদকের মূল কারবারিদের শনাক্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান জানান, সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে সীমান্তের যেসব স্থানে বেড়া নেই, সেসব জায়গায় চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও বাড়ানো প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লা সীমান্তে মাদকের ‘রাজপথ’, ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে সক্রিয় চক্র

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ভারত সীমান্তঘেঁষা কুমিল্লা এখন মাদক পাচারের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার পাঁচ উপজেলার অর্ধশতাধিক সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ঢুকছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হুইস্কিসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। পরে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লার সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ১০৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাদক ও চোরাচালান। এসব এলাকার মধ্যে ১২টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবির তালিকায় থাকা হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি ও তেতাভূমি, বুড়িচং উপজেলার ছয়গ্রাম, চড়ানল, ভাল্লক, বাঁশতলী ও নারায়ণপুর, চৌদ্দগ্রামের আমানগন্ডা, কুমিল্লা সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ও নিশ্চিন্তপুর এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর, যশপুর ও সূর্যনগর এলাকা।

এ ছাড়া বৌয়ারা, যাত্রাখিল, একবালিয়া, জয়নগর, মুড়াপাড়া, কচুয়ারপাড়, ধনপুর ও সুবর্ণপুরসহ আরও বেশ কিছু সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মাদক ও চোরাচালান চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করেই মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। তবে পুলিশ ও বিজিবি বলছে, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে কুমিল্লায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৯২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪২৫টি।

বিজিবি জানায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি থেকে সালদা পর্যন্ত সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওইসব খোলা এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশের ঝুঁকি বেশি। এসব মাদক কখনো সড়কপথে, কখনো রেলপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়।

মাদক পরিবহনের বড় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশও। বিভিন্ন সময়ে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও দপ্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদকের মূল কারবারিদের শনাক্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান জানান, সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে সীমান্তের যেসব স্থানে বেড়া নেই, সেসব জায়গায় চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও বাড়ানো প্রয়োজন।