ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ের বিলাসী জীবন শেষে পুলিশের জালে সাবেক আইজিপি

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ইতিহাসে আলোচিত ও প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানদের একজন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং এনসিবি আবুধাবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলে জানায় যে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে, যা প্রক্রিয়াধীন।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তার প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও মামলা সংক্রান্ত দলিল প্রস্তুত করছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের মাধ্যমে সমন্বয় করছে বলেও জানানো হয়।

ইন্টারপোল ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল, যার ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং সর্বশেষ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি আইজিপি ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় র‌্যাব ও ডিএমপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তবে দায়িত্বকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। দুদকের মামলায় বলা হয়, প্রায় ১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার নামে বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত সম্পদের তুলনায় অপ্রকাশিত ও অতিরিক্ত সম্পদের অস্তিত্বও পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি দেশ ছাড়েন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

সরকার বলছে, তার গ্রেপ্তার বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পাশাপাশি দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে।

দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেনজীর আহমেদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় সম্পদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে অবস্থান ঘিরে।

এখন তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ বিতর্কিত অধ্যায়ের নতুন একটি ধাপ শুরু হলো—আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দুবাইয়ের বিলাসী জীবন শেষে পুলিশের জালে সাবেক আইজিপি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দেশের ইতিহাসে আলোচিত ও প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানদের একজন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং এনসিবি আবুধাবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলে জানায় যে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে, যা প্রক্রিয়াধীন।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তার প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও মামলা সংক্রান্ত দলিল প্রস্তুত করছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের মাধ্যমে সমন্বয় করছে বলেও জানানো হয়।

ইন্টারপোল ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল, যার ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং সর্বশেষ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি আইজিপি ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় র‌্যাব ও ডিএমপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তবে দায়িত্বকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। দুদকের মামলায় বলা হয়, প্রায় ১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার নামে বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত সম্পদের তুলনায় অপ্রকাশিত ও অতিরিক্ত সম্পদের অস্তিত্বও পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি দেশ ছাড়েন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

সরকার বলছে, তার গ্রেপ্তার বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পাশাপাশি দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে।

দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেনজীর আহমেদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় সম্পদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে অবস্থান ঘিরে।

এখন তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ বিতর্কিত অধ্যায়ের নতুন একটি ধাপ শুরু হলো—আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া।