ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করে গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছামিনা আক্তার (২০) নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। স্বামী সুজন (২৬) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে জানায়, জামাই সুজন একজন ইয়াবা সেবী।গতকাল রাত বারোটার দিকে ইয়াবা সেবন করে বাসায় আসে। মেয়ে সামিনার সাথে রাতে ঝামেলা হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকা চায় সুজন। নেশার টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুজন ধারালো চাকু দিয়ে ছামিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্ত্রীকে আঘাত করার পর সুজন নিজ শরীরে চাকু দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতাল জরুরী বিভাগের ডাক্তার মাসুম রেজা একই বিভাগের ডাক্তার সাকিবুল ইসলামরে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সামিরার মৃত্যু হয়েছে। সুজনকে ভর্তি করে সার্জারি ওয়াডে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর সদরের তালবাড়িয়া পুলিশ ফাড়ির আইসি এস আই তামিম ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন,
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এবং ঘাতক স্বামী সুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যশোরে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করে গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছামিনা আক্তার (২০) নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। স্বামী সুজন (২৬) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে জানায়, জামাই সুজন একজন ইয়াবা সেবী।গতকাল রাত বারোটার দিকে ইয়াবা সেবন করে বাসায় আসে। মেয়ে সামিনার সাথে রাতে ঝামেলা হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকা চায় সুজন। নেশার টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুজন ধারালো চাকু দিয়ে ছামিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্ত্রীকে আঘাত করার পর সুজন নিজ শরীরে চাকু দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতাল জরুরী বিভাগের ডাক্তার মাসুম রেজা একই বিভাগের ডাক্তার সাকিবুল ইসলামরে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সামিরার মৃত্যু হয়েছে। সুজনকে ভর্তি করে সার্জারি ওয়াডে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর সদরের তালবাড়িয়া পুলিশ ফাড়ির আইসি এস আই তামিম ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন,
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এবং ঘাতক স্বামী সুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।