ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবিরনেতা জিসান ইস্যুতে সংসদে তুমুল হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নেতার নিখোঁজ হওয়া, গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে তাকে জোর করে ভ্রূণ নষ্টের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগও ওঠে।

মন্ত্রী বলেন, ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও আগের রাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংসদে আনা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কেন তাকে বা অভিযোগকারী নারীকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উভয় পক্ষের সদস্যরা দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার বারবার সদস্যদের নিজ আসনে বসার আহ্বান জানান। পরে তিনি রুলিং দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বা অসংসদীয় কোনো বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেপুটি স্পিকারের রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিবিরনেতা জিসান ইস্যুতে সংসদে তুমুল হট্টগোল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নেতার নিখোঁজ হওয়া, গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হাতুড়ি পিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে তাকে জোর করে ভ্রূণ নষ্টের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগও ওঠে।

মন্ত্রী বলেন, ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও আগের রাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংসদে আনা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কেন তাকে বা অভিযোগকারী নারীকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উভয় পক্ষের সদস্যরা দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার বারবার সদস্যদের নিজ আসনে বসার আহ্বান জানান। পরে তিনি রুলিং দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বা অসংসদীয় কোনো বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেপুটি স্পিকারের রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।