ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, সবার অধিকার সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডের আগে ঢাকাকে জানায়নি সৌদি আরব, জবাব চেয়ে চিঠি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তের ১৩ পূজামণ্ডপে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা, প্রস্তুত আরও দুই প্লাটুন রাস্তায় মাদকাসক্ত অবস্থায় ‘রাজকুমারী’, ৩ মাসের রিহ্যাব ও জরিমানা শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার’: প্রতিমন্ত্রী টুকু টাঙ্গাইলে ২ হাজার ৮০০ হিন্দুধর্মাবলম্বীকে প্রতিমন্ত্রীর উপহার ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১ যুব উন্নয়নে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭ হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার

বাবার গড়া বাগানেই স্বপ্নপূরণ

মোঃ মশিউর রহমান, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাবার হাতে গড়া একটি লটকন বাগান এখন এক পরিবারের জীবনে এনে দিয়েছে স্বচ্ছলতা ও স্থিতি। একসময় অভাব-অনটনে দিন কাটানো পরিবারটি এখন এই বাগান থেকেই পাচ্ছে নিয়মিত আয়, যা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা গ্রামের মতিউর রহমান প্রায় আট বছর আগে নিজের ৩৩ শতাংশ পরিত্যক্ত জমিতে শখের বশে শতাধিক লটকন গাছ রোপণ করেন। ধীরে ধীরে সেই গাছগুলো বড় হয় এবং প্রায় তিন বছর পর থেকে ফল দিতে শুরু করে।

জীবদ্দশায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করলেও সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন মতিউর রহমান। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ভেবে তিনি লটকনের বাগান গড়ে তোলেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অনিশ্চয়তায় পড়লেও বাবার গড়ে তোলা বাগানই হয়ে ওঠে টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন। বর্তমানে বাগানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বড় ছেলে লাম আলিফ, যিনি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত।

লাম আলিফ জানান, প্রতি মৌসুমে বাগানে ভালো ফলন হচ্ছে এবং প্রতিদিন লটকন বিক্রি করে পরিবারে নিয়মিত আয় আসছে। এতে তাদের আর্থিক সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ঝুলে আছে পাকা লটকন, যা স্থানীয় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

মতিউরের ছোট ভাই আবুল হোসেন বলেন, শুরুতে অনেকেই এই চাষকে নিরুৎসাহিত করেছিল। তবে এখন সেই বাগানই পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তার মতে, বাবার পরিশ্রমই আজ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

লাম আলিফ আরও বলেন, “বাবা না থাকলেও তার গড়ে দেওয়া এই বাগানই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। না হলে জীবন আরও কঠিন হয়ে যেত।”

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দোআঁশ ও লাল মাটিতে লটকন চাষ ভালো হয় এবং মধুপুর–ঘাটাইল অঞ্চলের পরিবেশ এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। ইতোমধ্যে এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ বাড়ছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমজান আলী বলেন, পাহাড়ি লাল মাটির কারণে এ অঞ্চলে লটকন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়ের উৎস হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাবার গড়া বাগানেই স্বপ্নপূরণ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাবার হাতে গড়া একটি লটকন বাগান এখন এক পরিবারের জীবনে এনে দিয়েছে স্বচ্ছলতা ও স্থিতি। একসময় অভাব-অনটনে দিন কাটানো পরিবারটি এখন এই বাগান থেকেই পাচ্ছে নিয়মিত আয়, যা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা গ্রামের মতিউর রহমান প্রায় আট বছর আগে নিজের ৩৩ শতাংশ পরিত্যক্ত জমিতে শখের বশে শতাধিক লটকন গাছ রোপণ করেন। ধীরে ধীরে সেই গাছগুলো বড় হয় এবং প্রায় তিন বছর পর থেকে ফল দিতে শুরু করে।

জীবদ্দশায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করলেও সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন মতিউর রহমান। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ভেবে তিনি লটকনের বাগান গড়ে তোলেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অনিশ্চয়তায় পড়লেও বাবার গড়ে তোলা বাগানই হয়ে ওঠে টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন। বর্তমানে বাগানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বড় ছেলে লাম আলিফ, যিনি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত।

লাম আলিফ জানান, প্রতি মৌসুমে বাগানে ভালো ফলন হচ্ছে এবং প্রতিদিন লটকন বিক্রি করে পরিবারে নিয়মিত আয় আসছে। এতে তাদের আর্থিক সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ঝুলে আছে পাকা লটকন, যা স্থানীয় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

মতিউরের ছোট ভাই আবুল হোসেন বলেন, শুরুতে অনেকেই এই চাষকে নিরুৎসাহিত করেছিল। তবে এখন সেই বাগানই পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তার মতে, বাবার পরিশ্রমই আজ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

লাম আলিফ আরও বলেন, “বাবা না থাকলেও তার গড়ে দেওয়া এই বাগানই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। না হলে জীবন আরও কঠিন হয়ে যেত।”

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দোআঁশ ও লাল মাটিতে লটকন চাষ ভালো হয় এবং মধুপুর–ঘাটাইল অঞ্চলের পরিবেশ এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। ইতোমধ্যে এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ বাড়ছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমজান আলী বলেন, পাহাড়ি লাল মাটির কারণে এ অঞ্চলে লটকন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়ের উৎস হতে পারে।