ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কী ঘটেছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার Nayeem Hasan শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে মারধর ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এক এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে বাধা

ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছান নাঈম। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়।

নাঈমের অভিযোগ, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন সদস্য চালকের কাগজপত্র নেওয়ার পর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

মারধরের অভিযোগ

নাঈম দাবি করেন, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সঙ্গে পুলিশের এক সোর্স পরিচয়ধারী ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় নেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগ

মারধরের পর তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায়ও তিনি হেনস্তার শিকার হন। পরে ফোন ফেরত পেয়ে তিনি Tamim Iqbal-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্রিকেটাঙ্গন ও পরিবারের সদস্যরা থানায় ছুটে যান।

পুলিশের ব্যাখ্যা

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট অটোরিকশার বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং অভিযানের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি স্বীকার করেন, প্রাথমিকভাবে কিছু ভুলত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

ঘটনার পর নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি জানান, ঘটনার পরপরই এসআই শফিকুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কেন আলোচনায়?

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে একজন নাগরিককে, এমনকি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও, কেন শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হলো? নাঈম নিজেও বলেছেন, “আমার জন্য অনেক মানুষ এসেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তো কেউ আসে না।” তার এই মন্তব্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণ ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কী ঘটেছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার Nayeem Hasan শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে মারধর ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এক এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে বাধা

ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছান নাঈম। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়।

নাঈমের অভিযোগ, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন সদস্য চালকের কাগজপত্র নেওয়ার পর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

মারধরের অভিযোগ

নাঈম দাবি করেন, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সঙ্গে পুলিশের এক সোর্স পরিচয়ধারী ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় নেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগ

মারধরের পর তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায়ও তিনি হেনস্তার শিকার হন। পরে ফোন ফেরত পেয়ে তিনি Tamim Iqbal-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্রিকেটাঙ্গন ও পরিবারের সদস্যরা থানায় ছুটে যান।

পুলিশের ব্যাখ্যা

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট অটোরিকশার বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং অভিযানের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি স্বীকার করেন, প্রাথমিকভাবে কিছু ভুলত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

ঘটনার পর নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি জানান, ঘটনার পরপরই এসআই শফিকুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কেন আলোচনায়?

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে একজন নাগরিককে, এমনকি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও, কেন শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হলো? নাঈম নিজেও বলেছেন, “আমার জন্য অনেক মানুষ এসেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তো কেউ আসে না।” তার এই মন্তব্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণ ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।