সরবরাহ কমতেই চড়ল মরিচের বাজার, খুশি কৃষক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা মরিচচাষিদের মুখে হাসি ফিরতে শুরু করেছে।
রোববার (১৪ জুন) জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর হাটে কাঁচা মরিচ সর্বোচ্চ ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ আগের দিন শনিবার একই হাটে মরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২৩ টাকা কেজি।
জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচা মরিচের বাজার তিলকপুর হাট। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মরিচ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। ফলে এ বাজারের দামের প্রভাব জেলার অন্যান্য বাজারেও পড়ে।
ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন ভালো হলেও শুরু থেকেই বাজারদর ছিল হতাশাজনক। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়েছে অনেক চাষিকে। তবে রোববার হাটে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যায়।
তিলকপুর এলাকার মরিচচাষি রেজাউল করিম বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ১৫ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছি। এতে উৎপাদন খরচই উঠছিল না। আজ ৩০ কেজি মরিচ ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পেরে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।”
আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, “এবার মরিচের বাজার খুবই খারাপ ছিল। আগে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়েছে। আজ ৫৩ কেজি মরিচ নিয়ে হাটে এসেছিলাম। সকালে দাম ছিল ৩২ টাকা, পরে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এরপর দাম আরও বেড়ে ৪২ টাকায় পৌঁছায়। এ অবস্থা থাকলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”
তিলকপুর বাজারের পাইকার রুস্তম আলী বলেন, “আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় মরিচের সরবরাহ কিছুটা কম ছিল। এ কারণেই দাম বেড়েছে। তবে আগামী দিনে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে।”
দীর্ঘদিনের মন্দা বাজারের পর হঠাৎ দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলার মরিচচাষিদের মধ্যে। তবে কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারে ন্যায্যমূল্য স্থিতিশীল থাকলে তারা উৎপাদন খরচ তুলে লাভের মুখ দেখতে পারবেন।





















