ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় মোবাইল ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যা: গ্রেফতার ২

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ঈর্ষা এবং মালামাল লুটের লোভেই শফিকুলকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ ও পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নওগাঁ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার বারমাসি বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে ব্যবসায়ী শফিকুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে জয়নুল নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুল নামের আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর জয়নুল পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “গত ৭ জুন জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাটে বসে শফিকুলকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে তিন অপরাধী। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে কৌশলে ভীমপুর কলেজ মোড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে তাকে বারোমাসি বিলের পার ঘাটি ব্রিজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছামাত্রই পেছন থেকে এক পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় ফাঁস লাগিয়ে টান দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারকৃত জয়নুল শফিকুলের হাত এবং আশরাফুল তার পা চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শফিকুল নিস্তেজ হয়ে পড়লে, তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তিনজনে মিলে মরদেহটি পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। হত্যাকাণ্ড শেষে আসামিরা শফিকুলের কাছে থাকা মাত্র ১৫০০ টাকা এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরও জানান, মূলত ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ঈর্ষা এবং আর্থিক লোভের বশবর্তী হয়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নওগাঁয় মোবাইল ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যা: গ্রেফতার ২

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ঈর্ষা এবং মালামাল লুটের লোভেই শফিকুলকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ ও পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নওগাঁ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার বারমাসি বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে ব্যবসায়ী শফিকুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে জয়নুল নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুল নামের আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর জয়নুল পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “গত ৭ জুন জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাটে বসে শফিকুলকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে তিন অপরাধী। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে কৌশলে ভীমপুর কলেজ মোড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে তাকে বারোমাসি বিলের পার ঘাটি ব্রিজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছামাত্রই পেছন থেকে এক পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় ফাঁস লাগিয়ে টান দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারকৃত জয়নুল শফিকুলের হাত এবং আশরাফুল তার পা চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শফিকুল নিস্তেজ হয়ে পড়লে, তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তিনজনে মিলে মরদেহটি পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। হত্যাকাণ্ড শেষে আসামিরা শফিকুলের কাছে থাকা মাত্র ১৫০০ টাকা এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরও জানান, মূলত ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ঈর্ষা এবং আর্থিক লোভের বশবর্তী হয়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।