জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, তিন পুলিশ প্রত্যাহার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক এসআইসহ তিন সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নাঈম হাসানের অভিযোগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন তাঁর গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়।
তিনি জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাঈমের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে উপস্থিত শতাধিক মানুষ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ হয়নি। পরে তাঁকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে ওসির কক্ষেও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে।
নাঈম বলেন, “আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আমার মতো পরিচিত কারও জন্য মানুষ এগিয়ে এসেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ হলে হয়তো কেউ পাশে দাঁড়াত না।”
এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, একটি অটোরিকশায় চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে অভিযানের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযানের বিষয়টি তাঁকে আগে জানানো হয়নি। থানায় আনার পর তিনি নাঈমের পরিচয় জানতে পারেন। ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। তবে পুরো ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
























