ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিকে গ্রুপকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি, সরবরাহ কমিয়ে মূল্য বৃদ্ধি

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিশন জানিয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো, উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজকে এই জরিমানা করা হয়।

চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চাইলে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।

কমিশনের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে শবনম ভেজিটেবল অয়েল উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত রেখে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর ফলে ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর একাধিক বিধান লঙ্ঘন করেছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ অনুযায়ী সরবরাহ আদেশের (এসও) মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন হলেও শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশন এটিকে প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তদন্ত চালিয়ে আটটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়।

পরবর্তীতে কমিশন তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। অনুসন্ধানে গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড এবং বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরবরাহ সীমিত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠে।

কমিশনের নিজস্ব তদন্ত এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে কারসাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টিকে গ্রুপকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি, সরবরাহ কমিয়ে মূল্য বৃদ্ধি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিশন জানিয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো, উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজকে এই জরিমানা করা হয়।

চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চাইলে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।

কমিশনের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে শবনম ভেজিটেবল অয়েল উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত রেখে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর ফলে ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর একাধিক বিধান লঙ্ঘন করেছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ অনুযায়ী সরবরাহ আদেশের (এসও) মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন হলেও শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশন এটিকে প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তদন্ত চালিয়ে আটটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়।

পরবর্তীতে কমিশন তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। অনুসন্ধানে গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড এবং বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরবরাহ সীমিত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠে।

কমিশনের নিজস্ব তদন্ত এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে কারসাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।