ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসির-তামিমার বিয়েতে আইনগত বাধা ছিল না, খালাসের রায়ে আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্যভিচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নাসির ও তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না এবং অভিযোগ প্রমাণে বাদীপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, তামিমার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হলেও তা প্রমাণের জন্য তার দ্বিতীয় বিয়েকে অবৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হতো। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্রে দেখা যায়, তামিমা তার পূর্বের স্বামী রাকিবকে ২০১৬ সালে তালাক দেন এবং সেই তালাক যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়।

বাদীপক্ষ দাবি করেছিল, তালাকের নোটিশ তাকে দেওয়া হয়নি। তবে আসামিপক্ষ ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোর রসিদ আদালতে উপস্থাপন করে। এ বিষয়ে ডাক বিভাগের চিঠি বিতরণকারী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তিনি নোটিশ নিয়ে গেলেও বাদী তা গ্রহণ করেননি।

আদালত আরও বলেন, ২০১৬ সালে তালাকের পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত তামিমা ও রাকিবের মধ্যে স্বাভাবিক দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সাক্ষ্য-প্রমাণে তাদের আলাদা অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে।

মামলার শুনানিতে তাদের সন্তানের সাক্ষ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিশু সাক্ষ্যে জানায়, তার মা তাকে নিয়ে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

রায়ে আদালত বলেন, বাদী নিজেই তামিমাকে ‘তালাকে তাফউইজ’ বা তালাক প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে তামিমা তালাক দেন এবং তা আইন অনুযায়ী নিবন্ধিতও হয়। ফলে তালাক কার্যকরের কয়েক বছর পর ২০২১ সালে নাসির হোসেনকে বিয়ে করতে তার কোনো আইনগত বাধা ছিল না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, মামলায় আনা অন্যান্য অভিযোগও বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নাসির-তামিমার বিয়েতে আইনগত বাধা ছিল না, খালাসের রায়ে আদালত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ব্যভিচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নাসির ও তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না এবং অভিযোগ প্রমাণে বাদীপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, তামিমার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হলেও তা প্রমাণের জন্য তার দ্বিতীয় বিয়েকে অবৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হতো। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্রে দেখা যায়, তামিমা তার পূর্বের স্বামী রাকিবকে ২০১৬ সালে তালাক দেন এবং সেই তালাক যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়।

বাদীপক্ষ দাবি করেছিল, তালাকের নোটিশ তাকে দেওয়া হয়নি। তবে আসামিপক্ষ ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোর রসিদ আদালতে উপস্থাপন করে। এ বিষয়ে ডাক বিভাগের চিঠি বিতরণকারী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তিনি নোটিশ নিয়ে গেলেও বাদী তা গ্রহণ করেননি।

আদালত আরও বলেন, ২০১৬ সালে তালাকের পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত তামিমা ও রাকিবের মধ্যে স্বাভাবিক দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সাক্ষ্য-প্রমাণে তাদের আলাদা অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে।

মামলার শুনানিতে তাদের সন্তানের সাক্ষ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিশু সাক্ষ্যে জানায়, তার মা তাকে নিয়ে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

রায়ে আদালত বলেন, বাদী নিজেই তামিমাকে ‘তালাকে তাফউইজ’ বা তালাক প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে তামিমা তালাক দেন এবং তা আইন অনুযায়ী নিবন্ধিতও হয়। ফলে তালাক কার্যকরের কয়েক বছর পর ২০২১ সালে নাসির হোসেনকে বিয়ে করতে তার কোনো আইনগত বাধা ছিল না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, মামলায় আনা অন্যান্য অভিযোগও বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।