সাত দিন ধরে ঘরে ছিল মায়ের মরদেহ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের এক হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এসেছে মিরপুরের একটি বাসা থেকে। একই ছাদের নিচে পরিবারের সদস্যরা থাকলেও সাত দিন ধরে নিথর পড়ে ছিলেন ৭২ বছর বয়সী নুরজাহান বেগম। অথচ তার মৃত্যুর বিষয়টি টের পাননি পাশের কক্ষে থাকা ছেলেও।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন তার কক্ষের দরজা না খোলায় এবং মরদেহে পচন ধরার পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসআই শামসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, বৃদ্ধার নিয়মিত তদারকি ও খোঁজখবরের ঘাটতি ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার দেখভালের দায়িত্ব মূলত মেয়ের ওপর ছিল। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো নথি বা প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও পরিবারের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বৃদ্ধার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অসুস্থ অবস্থায় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা আগে নিয়মিত যাতায়াত করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধার দেখাশোনায় ঘাটতি ছিল। একই বাসায় ছেলে ও গৃহকর্মী থাকলেও মৃত্যুর বিষয়টি এতদিন অজানা থেকে যায়।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, নুরজাহান বেগম বেশিরভাগ সময় নিজের কক্ষেই থাকতেন। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যাও ছিল তার। শেষ সময়ে তিনি কতটা একাকী ছিলেন, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মিরপুরের এই ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুর খবর নয়; এটি নগর জীবনের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার এক বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি। যেখানে একই পরিবারের সদস্যরা একই বাসায় থেকেও অনেক সময় একে অপরের জীবন থেকে দূরে সরে যান। আর সেই দূরত্ব কখনও কখনও এমন এক নিঃসঙ্গ পরিণতির জন্ম দেয়, যা সমাজকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

























