ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলে যেতে পারে জিনের কার্যকারিতা

বায়ুদূষণে গর্ভেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর মস্তিষ্ক

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বায়ুদূষণ শুধু শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতিই করছে না, গর্ভে থাকা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। ভারতের All India Institute of Medical Sciences (এমস)-এর চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দূষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা ভ্রূণের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও যকৃতে ক্ষতিকর দূষিত কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কীভাবে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে পৌঁছায় দূষণ?

চিকিৎসকদের মতে, বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা—বিশেষ করে PM2.5 ও PM10—মায়ের ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে প্লাসেন্টায় পৌঁছে যায়। প্লাসেন্টা হলো সেই অঙ্গ, যার মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণ খাদ্য ও অক্সিজেন পায়। ফলে সেখানে জমা হওয়া দূষিত কণাও সরাসরি ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

দূষণ যেভাবে ক্ষতি করে

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দূষিত কণাগুলো প্রধানত তিনভাবে ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে—

  • শিশুর বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা IGFBP3 জিনের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।
  • প্লাসেন্টার রক্তনালির স্বাভাবিক গঠন বাধাগ্রস্ত হয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ কমে যেতে পারে।
  • মস্তিষ্কের স্নায়বিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে ভবিষ্যতে শারীরিক বা মানসিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গর্ভস্থ ও নবজাতকের সম্ভাব্য ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দূষণের প্রভাবে—

  • সময়ের আগেই শিশুর জন্ম হতে পারে।
  • জন্মের সময় শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে।
  • জন্মের পর শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
  • পরবর্তী জীবনে হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে বিকাশজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • গর্ভবতী নারীর উচ্চ রক্তচাপ ও গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা

প্রাণীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় দূষণের সংস্পর্শে আসা সন্তানের মধ্যে পরবর্তীকালে স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা, আচরণগত বিকাশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন শুধু জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বদলে যেতে পারে জিনের কার্যকারিতা

বায়ুদূষণে গর্ভেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর মস্তিষ্ক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বায়ুদূষণ শুধু শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতিই করছে না, গর্ভে থাকা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। ভারতের All India Institute of Medical Sciences (এমস)-এর চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দূষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা ভ্রূণের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও যকৃতে ক্ষতিকর দূষিত কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কীভাবে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে পৌঁছায় দূষণ?

চিকিৎসকদের মতে, বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা—বিশেষ করে PM2.5 ও PM10—মায়ের ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে প্লাসেন্টায় পৌঁছে যায়। প্লাসেন্টা হলো সেই অঙ্গ, যার মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণ খাদ্য ও অক্সিজেন পায়। ফলে সেখানে জমা হওয়া দূষিত কণাও সরাসরি ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

দূষণ যেভাবে ক্ষতি করে

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দূষিত কণাগুলো প্রধানত তিনভাবে ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে—

  • শিশুর বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা IGFBP3 জিনের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।
  • প্লাসেন্টার রক্তনালির স্বাভাবিক গঠন বাধাগ্রস্ত হয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ কমে যেতে পারে।
  • মস্তিষ্কের স্নায়বিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে ভবিষ্যতে শারীরিক বা মানসিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গর্ভস্থ ও নবজাতকের সম্ভাব্য ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দূষণের প্রভাবে—

  • সময়ের আগেই শিশুর জন্ম হতে পারে।
  • জন্মের সময় শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে।
  • জন্মের পর শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
  • পরবর্তী জীবনে হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে বিকাশজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • গর্ভবতী নারীর উচ্চ রক্তচাপ ও গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা

প্রাণীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় দূষণের সংস্পর্শে আসা সন্তানের মধ্যে পরবর্তীকালে স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা, আচরণগত বিকাশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন শুধু জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।