সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
মানচিত্র থেকে হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে, আর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। সতর্ক করা হয়েছে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের বেশ কয়েকটি নিচু উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপরাষ্ট্র অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।
আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (IPCC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্তত ১৭টি অঞ্চল আংশিক বা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ নিয়ে প্রকাশিত এক গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
গবেষণায় বলা হয়েছে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ সমুদ্রগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষিজমির ক্ষতি এবং ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ দ্বীপ ২০৫০ সালের মধ্যেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টুভালুর প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা এবং কিরিবাতির বিস্তীর্ণ অংশও শতাব্দীর শেষ নাগাদ পানির নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, নাউরু, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি ও বাহামাসসহ বেশ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলকেও উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।
শুধু উন্নয়নশীল বা দ্বীপরাষ্ট্র নয়, উন্নত বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলও হুমকির মুখে। ইতালির ঐতিহাসিক শহর ভেনিস প্রতি বছর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসের বড় অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করায় দেশটিও উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে।
গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ভূখণ্ড হারানোর ঘটনা ঘটবে না; বদলে যাবে জীববৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ভারসাম্য। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে কোটি কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

























