ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের প্রতিবাদ ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জানুয়ারি ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর টাক ঢাকতে হেয়ার প্যাচ কতটা নিরাপদ? ভুল ব্যবহারে বাড়তে পারে চুল পড়া শিগগিরই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক খালেদা জিয়া: রাজপথ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ পথচলা আরও বড় পরিসরে চালু হবে যশোর শিশু হাসপাতাল: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত Billions at Stake, Work Left Unfinished: Questions Surround Transrail and Amrik Singh হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও ট্রান্সরেল ও অমৃক সিং? ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী , দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

কোন পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ, কী বলছে ইসলাম?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হতে হবে সুস্থ, ত্রুটিমুক্ত ও নির্দিষ্ট বয়সসীমা পূর্ণ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য উত্তম ও স্বাস্থ্যবান পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোরবানির বর্ণনাও এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ও হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আবু ছালেহ পাটোয়ারি বলেন, রাসুল (সা.) সবসময় স্বাস্থ্যবান ও শিংওয়ালা দুম্বা কোরবানি করতেন। তিনি জানান, ইসলামি বিধান অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা—এই ছয় ধরনের পশু দিয়েই কোরবানি বৈধ। এর বাইরে অন্য কোনো পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়।

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার শারীরিক সুস্থতা ও বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। তবে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা দেখতে পূর্ণবয়স্ক মনে হলে তা কোরবানি করা যেতে পারে। গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর এবং উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে।

মুফতি আনিসুর রহমান শিকদার বলেন, কোরবানির পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন। যে পশু অন্ধ, খোঁড়া, অত্যন্ত দুর্বল, দাঁতহীন বা গুরুতর শারীরিক ত্রুটিযুক্ত—এমন পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়। এছাড়া কান বা লেজের বড় অংশ কাটা থাকলেও সেই পশু কোরবানির উপযুক্ত হবে না।

তিনি আরও বলেন, পশুটি যেন নিজে হেঁটে জবাইয়ের স্থানে যেতে সক্ষম হয়। তবে কেনার পর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেই পশু কোরবানি করা যাবে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যেসব মুসলমানের কাছে নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে কোরবানি আদায় করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরবানির পশুর ধরনে ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশে গরু কোরবানি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এছাড়া ছাগলও ব্যাপকভাবে কোরবানি দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরব বিশ্বে উট, দুম্বা ও মহিষ কোরবানির প্রচলন বেশি দেখা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কোন পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ, কী বলছে ইসলাম?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ইসলামে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হতে হবে সুস্থ, ত্রুটিমুক্ত ও নির্দিষ্ট বয়সসীমা পূর্ণ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য উত্তম ও স্বাস্থ্যবান পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোরবানির বর্ণনাও এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ও হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আবু ছালেহ পাটোয়ারি বলেন, রাসুল (সা.) সবসময় স্বাস্থ্যবান ও শিংওয়ালা দুম্বা কোরবানি করতেন। তিনি জানান, ইসলামি বিধান অনুযায়ী উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা—এই ছয় ধরনের পশু দিয়েই কোরবানি বৈধ। এর বাইরে অন্য কোনো পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়।

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার শারীরিক সুস্থতা ও বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। তবে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা দেখতে পূর্ণবয়স্ক মনে হলে তা কোরবানি করা যেতে পারে। গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর এবং উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে।

মুফতি আনিসুর রহমান শিকদার বলেন, কোরবানির পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন। যে পশু অন্ধ, খোঁড়া, অত্যন্ত দুর্বল, দাঁতহীন বা গুরুতর শারীরিক ত্রুটিযুক্ত—এমন পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়। এছাড়া কান বা লেজের বড় অংশ কাটা থাকলেও সেই পশু কোরবানির উপযুক্ত হবে না।

তিনি আরও বলেন, পশুটি যেন নিজে হেঁটে জবাইয়ের স্থানে যেতে সক্ষম হয়। তবে কেনার পর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেই পশু কোরবানি করা যাবে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যেসব মুসলমানের কাছে নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে কোরবানি আদায় করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরবানির পশুর ধরনে ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশে গরু কোরবানি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এছাড়া ছাগলও ব্যাপকভাবে কোরবানি দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরব বিশ্বে উট, দুম্বা ও মহিষ কোরবানির প্রচলন বেশি দেখা যায়।