ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন আতঙ্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি? সতর্ক করছে হু

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মরসুমি ফ্লুর পরিচিত ভাইরাসগুলোর বাইরে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের পর্যবেক্ষণে ভাইরাসটি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত গবাদিপশুর শরীরে পাওয়া যেত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মানুষের শরীরেও প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে পশুখামারে কাজ করা ব্যক্তি বা ওই পরিবেশে থাকা মানুষের শরীরে এ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির গবেষকরা বর্তমানে ভাইরাসটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি আরএনএ ভাইরাস, যা করোনাভাইরাসের মতো শ্বাসনালির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যের শরীরেও এটি ছড়ানোর সক্ষমতা রাখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে, ফলে বিভিন্ন আবহাওয়ায় এটি সক্রিয় থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে এখনো বড় পরিসরে মানবদেহে সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ নিয়েই এটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবদেহের একটি প্রোটিন ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং লিভার ও ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এখনো বড় ধরনের মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও এর আচরণ ও বিবর্তন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে গবেষণা ও নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নতুন আতঙ্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি? সতর্ক করছে হু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মরসুমি ফ্লুর পরিচিত ভাইরাসগুলোর বাইরে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের পর্যবেক্ষণে ভাইরাসটি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত গবাদিপশুর শরীরে পাওয়া যেত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মানুষের শরীরেও প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে পশুখামারে কাজ করা ব্যক্তি বা ওই পরিবেশে থাকা মানুষের শরীরে এ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির গবেষকরা বর্তমানে ভাইরাসটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি আরএনএ ভাইরাস, যা করোনাভাইরাসের মতো শ্বাসনালির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যের শরীরেও এটি ছড়ানোর সক্ষমতা রাখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে, ফলে বিভিন্ন আবহাওয়ায় এটি সক্রিয় থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে এখনো বড় পরিসরে মানবদেহে সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ নিয়েই এটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবদেহের একটি প্রোটিন ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং লিভার ও ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এখনো বড় ধরনের মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও এর আচরণ ও বিবর্তন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে গবেষণা ও নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।