ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপূর্তের তাজুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: ধামাচাপায় ‘মিথ্যা রিপোর্ট’, তদন্তে মন্ত্রণালয়

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল ঢাকা-এর উচ্চমান সহকারী মোঃ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল ও ভাড়া বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্তে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে তার নজিরবিহীন দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার এক নগ্ন চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক প্রেরিত অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ-৩ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম সরাসরি মিথ্যাচার করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে ১৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকৌশলী আমীরুল ইসলাম দাবি করেন, তাজুল ইসলাম কোনো অবৈধ বাসায় বসবাস করছেন না এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। অথচ বাস্তবতা হলো, ২০১১ সাল থেকে সুদীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় তাজুল ইসলাম সরকারি কোয়ার্টার, দোকান এবং ক্যান্টিনকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস বানিয়ে সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন।

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, কোর্ট অব সেটেলমেন্টের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে তাজুলকে উচ্ছেদের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ৯ মাস পর তাজুলকে উচ্ছেদ করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে নির্দোষ সাজানো হয়েছে। প্রকৌশলী আমীরুল ইসলাম দাবি করেন যে তিনি অভিযোগের ৭ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করেছেন, যা দাপ্তরিক নথির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন রয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়েই এই কাল্পনিক ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৩ সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদনেও তাজুলের অবৈধ দখলদারিত্বের প্রমাণ মিলেছিল। বর্তমানেও তাজুল ইসলাম দুদক কম্পাউন্ডে ৫১টি বাসা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫,০০,০০০ টাকা ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কোনো অর্থ সরকারি তহবিলে জমা হয় না।

এছাড়া রাজারবাগ ও কোর্ট অব সেটেলমেন্ট এলাকায় তার দখলদারিত্বের কারণে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। শুধু একটি টিনশেডে অবৈধভাবে বসবাসের কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল বাবদ সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২,৬২,০০০ টাকা।

বিগত ১৩ বৎসরে বাসা ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিল বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তাজুল ইসলাম নিজেই প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং সরকার ঐ বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে সঠিক সত্যতা বের করে এই চাঁদাবাজ ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য গণপূর্ত বিভাগের সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, দুর্নীতির এই ধারাবাহিকতায় ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হয়েছে। শীঘ্রই একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এই পাহাড়সম দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গণপূর্তের তাজুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: ধামাচাপায় ‘মিথ্যা রিপোর্ট’, তদন্তে মন্ত্রণালয়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল ঢাকা-এর উচ্চমান সহকারী মোঃ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল ও ভাড়া বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্তে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে তার নজিরবিহীন দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার এক নগ্ন চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক প্রেরিত অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ-৩ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম সরাসরি মিথ্যাচার করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে ১৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকৌশলী আমীরুল ইসলাম দাবি করেন, তাজুল ইসলাম কোনো অবৈধ বাসায় বসবাস করছেন না এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। অথচ বাস্তবতা হলো, ২০১১ সাল থেকে সুদীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় তাজুল ইসলাম সরকারি কোয়ার্টার, দোকান এবং ক্যান্টিনকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস বানিয়ে সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন।

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, কোর্ট অব সেটেলমেন্টের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে তাজুলকে উচ্ছেদের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ৯ মাস পর তাজুলকে উচ্ছেদ করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে নির্দোষ সাজানো হয়েছে। প্রকৌশলী আমীরুল ইসলাম দাবি করেন যে তিনি অভিযোগের ৭ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করেছেন, যা দাপ্তরিক নথির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন রয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়েই এই কাল্পনিক ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৩ সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদনেও তাজুলের অবৈধ দখলদারিত্বের প্রমাণ মিলেছিল। বর্তমানেও তাজুল ইসলাম দুদক কম্পাউন্ডে ৫১টি বাসা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫,০০,০০০ টাকা ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কোনো অর্থ সরকারি তহবিলে জমা হয় না।

এছাড়া রাজারবাগ ও কোর্ট অব সেটেলমেন্ট এলাকায় তার দখলদারিত্বের কারণে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। শুধু একটি টিনশেডে অবৈধভাবে বসবাসের কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল বাবদ সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২,৬২,০০০ টাকা।

বিগত ১৩ বৎসরে বাসা ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিল বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তাজুল ইসলাম নিজেই প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং সরকার ঐ বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে সঠিক সত্যতা বের করে এই চাঁদাবাজ ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য গণপূর্ত বিভাগের সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, দুর্নীতির এই ধারাবাহিকতায় ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হয়েছে। শীঘ্রই একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এই পাহাড়সম দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।