ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস ফুলবাড়ী, বেড়েছে শরবত ও কোমল পানীয়র চাহিদা

আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাঝারি তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকেই। একই সঙ্গে বেড়েছে শরবত, আইসক্রিম ও কোমল পানীয়র চাহিদা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১ ডিগ্রি বেশি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

প্রখর রোদ ও গরমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলো দিনের বেশির ভাগ সময়ই ফাঁকা দেখা গেছে। রিকশা ও ভ্যানচালকরা কিছুক্ষণ কাজ করেই ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকেই বিকেলের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমলে কাজে বের হচ্ছেন।

ফুলবাড়ী পৌরসভার কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন (৬৩) বলেন, বয়সের কারণে রোদের মধ্যে কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সংসারের প্রয়োজনে বিকেলে কিছু সময়ের জন্য রিকশা নিয়ে বের হতে হয়।

এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক স্থানে টিউবওয়েল ও সেচযন্ত্রে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাপদাহে তৃষ্ণা মেটাতে শহর ও হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। আখের রস, তোকমা, এলোভেরা, পাকা বেল, শিমুলের মূল, হরতকি, বয়রা ও লেবুর শরবত গ্লাসপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরফ, লেবু, পানি ও বিট লবণ দিয়ে তৈরি শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা গ্লাসে।

ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতা সাইদার রহমান বলেন, গরম বাড়লে শরবতের চাহিদাও বাড়ে। তবে প্রচণ্ড রোদের কারণে মানুষ কম বের হওয়ায় দুপুরে ক্রেতা কিছুটা কম থাকলেও বিকেলের পর বিক্রি বেড়ে যায়।

আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি ১০ টাকা গ্লাসে লেবুর শরবত বিক্রি করেন। তাপমাত্রা যত বাড়ছে, বিক্রিও তত বাড়ছে। তবে রোদের তীব্রতায় তাকেও মাঝেমধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাইরে আগুনের মতো গরম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া কঠিন। মাঠে কৃষিশ্রমিকরাও দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না।

কোমল পানীয় বিক্রেতারাও বিক্রি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় এক পরিবেশক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোমল পানীয়র বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, বুধবার জেলায় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল, যা দেশের সর্বোচ্চ ছিল। বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপও বেড়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নূর-ই-আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ জানান, গত কয়েক দিনে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।

তিনি গরমজনিত অসুস্থতা ও হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস ফুলবাড়ী, বেড়েছে শরবত ও কোমল পানীয়র চাহিদা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাঝারি তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকেই। একই সঙ্গে বেড়েছে শরবত, আইসক্রিম ও কোমল পানীয়র চাহিদা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১ ডিগ্রি বেশি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

প্রখর রোদ ও গরমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলো দিনের বেশির ভাগ সময়ই ফাঁকা দেখা গেছে। রিকশা ও ভ্যানচালকরা কিছুক্ষণ কাজ করেই ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকেই বিকেলের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমলে কাজে বের হচ্ছেন।

ফুলবাড়ী পৌরসভার কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন (৬৩) বলেন, বয়সের কারণে রোদের মধ্যে কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সংসারের প্রয়োজনে বিকেলে কিছু সময়ের জন্য রিকশা নিয়ে বের হতে হয়।

এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক স্থানে টিউবওয়েল ও সেচযন্ত্রে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাপদাহে তৃষ্ণা মেটাতে শহর ও হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। আখের রস, তোকমা, এলোভেরা, পাকা বেল, শিমুলের মূল, হরতকি, বয়রা ও লেবুর শরবত গ্লাসপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরফ, লেবু, পানি ও বিট লবণ দিয়ে তৈরি শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা গ্লাসে।

ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতা সাইদার রহমান বলেন, গরম বাড়লে শরবতের চাহিদাও বাড়ে। তবে প্রচণ্ড রোদের কারণে মানুষ কম বের হওয়ায় দুপুরে ক্রেতা কিছুটা কম থাকলেও বিকেলের পর বিক্রি বেড়ে যায়।

আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি ১০ টাকা গ্লাসে লেবুর শরবত বিক্রি করেন। তাপমাত্রা যত বাড়ছে, বিক্রিও তত বাড়ছে। তবে রোদের তীব্রতায় তাকেও মাঝেমধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাইরে আগুনের মতো গরম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া কঠিন। মাঠে কৃষিশ্রমিকরাও দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না।

কোমল পানীয় বিক্রেতারাও বিক্রি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় এক পরিবেশক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোমল পানীয়র বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, বুধবার জেলায় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল, যা দেশের সর্বোচ্চ ছিল। বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপও বেড়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নূর-ই-আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ জানান, গত কয়েক দিনে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।

তিনি গরমজনিত অসুস্থতা ও হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন।