বজ্রপাতের কালো ছোবল, একদিনেই ১২ প্রাণহানি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলার পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আম কুড়াতে যাওয়া নারী-পুরুষ, মাঠ থেকে গরু আনতে যাওয়া যুবক এবং ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আক্রান্ত এক নারী।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (১৯), রানীবাজার এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল (১৪), নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম (৪১) এবং গোসাইপুর গ্রামের মো. শাফিউলের ছেলে হাসান আলি লালু (২১)।
পুলিশ জানিয়েছে, শিবগঞ্জ উপজেলার তিনজন আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে আহত হওয়া এক যুবক হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন মধু আলী (২৫) নামের এক যুবক। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন সেলিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ট্রাক্টরের কাজে ব্যবহারের জন্য বেলচা আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান শাহাদাত হোসেন (১৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মরিচখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বী হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার মা মনিকা বেগম।
ময়মনসিংহেও পৃথক দুই ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মুক্তাগাছায় বৃষ্টির সময় আমগাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পর বজ্রাঘাতে নিহত হন কলেজশিক্ষক এ এস এম খালেকুল আজাদ (৫৬)। অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন গ্রামে খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান সিয়াম (১৮) নামে এক তরুণ।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের ঝুঁকির সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে অবস্থান এবং কৃষিকাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।






















