ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

চুক্তি হয়েছিল সব জেনেও

ট্রাম্প প্রশাসনের কালো তালিকায় ‘ডিসকো’ শওকতের আনা জাহাজ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম উপকূলে ভাঙার জন্য আনা হয়েছিল প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার। পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ‘মেমেই’ নামের জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে থাকা জাহাজটি এখন আর ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন কর্পোরেশন। এর মালিক চট্টগ্রামভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, যিনি ‘ডিসকো শওকত’ হিসেবে সাধারণভাবে পরিচিত।

শুধু একটি জাহাজ নয়, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ এবং একই মালিকানাধীন আরেকটি জাহাজ ‘ফ্লোরা’ দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হংকং-ভিত্তিক ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তেল পরিবহনে জড়িত ছিল, এটা জানার পরও এসএন কর্পোরেশন তাদের সঙ্গে জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার চুক্তি করে।

নিষেধাজ্ঞার ছয়দিন আগে আসে চট্টগ্রামে

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে এসএন কর্পোরেশনের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন। দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

কিন্তু চট্টগ্রামে পৌঁছানোর মাত্র ছয় দিন পর, গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেনেশুনে ইরান থেকে তেল এনেছিল জাহাজটি

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন আরেকটি জাহাজ ‘ফ্লোরা’ ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ১৪ বার ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বোঝাই করেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি জেনেশুনে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন বা বিপণনের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

এ কারণে ‘মেমেই’ এবং ‘ফ্লোরা’কে এভার শাইনিং লিমিটেডের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

৬১ কোটির জাহাজ ঘিরে অনিশ্চয়তা

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে জাহাজ এবং এর মালিকের যেকোনো মার্কিন সম্পদ বা স্বার্থ জব্দ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামভিত্তিক এসএন কর্পোরেশনকে ঘিরেও প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চট্টগ্রামভিত্তিক এসএন কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। কারণ এভার শাইনিং লিমিটেড এবং তাদের জাহাজ ‘মেমেই’ ও ‘ফ্লোরা’ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ্যে থাকার পরও এসএন কর্পোরেশন তাদের কাছ থেকে জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার চুক্তি করে।

এর আগে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুরোনো জাহাজ কেনা নিয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার মালিকানাধীন এসএন কর্পোরেশনের নাম আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে খোলা কয়েকটি ঋণপত্রের সুবিধাভোগী ছিল একই ঠিকানায় নিবন্ধিত তিনটি বিদেশি কোম্পানি। এসব কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট খুঁজে পায়নি। পরে এসব লেনদেন ঘিরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চুক্তি হয়েছিল সব জেনেও

ট্রাম্প প্রশাসনের কালো তালিকায় ‘ডিসকো’ শওকতের আনা জাহাজ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম উপকূলে ভাঙার জন্য আনা হয়েছিল প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার। পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ‘মেমেই’ নামের জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে থাকা জাহাজটি এখন আর ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন কর্পোরেশন। এর মালিক চট্টগ্রামভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, যিনি ‘ডিসকো শওকত’ হিসেবে সাধারণভাবে পরিচিত।

শুধু একটি জাহাজ নয়, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ এবং একই মালিকানাধীন আরেকটি জাহাজ ‘ফ্লোরা’ দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হংকং-ভিত্তিক ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তেল পরিবহনে জড়িত ছিল, এটা জানার পরও এসএন কর্পোরেশন তাদের সঙ্গে জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার চুক্তি করে।

নিষেধাজ্ঞার ছয়দিন আগে আসে চট্টগ্রামে

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে এসএন কর্পোরেশনের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন। দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

কিন্তু চট্টগ্রামে পৌঁছানোর মাত্র ছয় দিন পর, গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেনেশুনে ইরান থেকে তেল এনেছিল জাহাজটি

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন আরেকটি জাহাজ ‘ফ্লোরা’ ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ১৪ বার ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বোঝাই করেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি জেনেশুনে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন বা বিপণনের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

এ কারণে ‘মেমেই’ এবং ‘ফ্লোরা’কে এভার শাইনিং লিমিটেডের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

৬১ কোটির জাহাজ ঘিরে অনিশ্চয়তা

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে জাহাজ এবং এর মালিকের যেকোনো মার্কিন সম্পদ বা স্বার্থ জব্দ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামভিত্তিক এসএন কর্পোরেশনকে ঘিরেও প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চট্টগ্রামভিত্তিক এসএন কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। কারণ এভার শাইনিং লিমিটেড এবং তাদের জাহাজ ‘মেমেই’ ও ‘ফ্লোরা’ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ্যে থাকার পরও এসএন কর্পোরেশন তাদের কাছ থেকে জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে কেনার চুক্তি করে।

এর আগে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুরোনো জাহাজ কেনা নিয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার মালিকানাধীন এসএন কর্পোরেশনের নাম আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে খোলা কয়েকটি ঋণপত্রের সুবিধাভোগী ছিল একই ঠিকানায় নিবন্ধিত তিনটি বিদেশি কোম্পানি। এসব কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট খুঁজে পায়নি। পরে এসব লেনদেন ঘিরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।